Tuesday, 16 October 2012

হোমিওপ্যাথ কেন অবলম্বন করিব।

বন্ধুগণ
যেহেতু এলোপ্যাথি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং পদ্ধতি অত্যন্ত চাকচিক্যময় তাছাড়া ইহার প্রচার ব্যবস্থা ও মাধ্যম অত্যন্ত শক্তিশালি, সেহেতু বর্তমানকালে আমরা হোমিওপ্যাথি কি এবং কেন ইত্যাদি প্রশ্নোত্তরগুলি
ভাবিবারই অবকাশ পাই না। যাহারা ও দু একজন হোমিওপ্যাথির সান্নিধ্যে আসি নিতান্ত আর্থিক কিংবা রোগীর আসন্ন মৃত্যুতে নিরুপায় না হইয়া আসি না।বলা বাহুল্য হোমিওপ্যাথি যে আপনার আমার জন্য
কি কল্যাণ বহিয়া আনিতে পারে তাহা আমরা কল্পনাতে ও গ্রহন করিতে চাহি না।আপনি একবার ভাবিয়াছেন কি ইহা আপনাকে শত প্রকার অপারেশন এবং শারিরীক রোগপ্রবনতা হইতে মুক্তি দিতে পারে? কিংবা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির মত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অজানা সব রোগ আনয়ন করিবে না ? হ্যাঁ, তবে চিকিৎসক নির্বাচনে ভুল করিলে চিররোগ দুরিকরনে ব্যর্থ হইতে পারেন। 
১) হোমিওপ্যাথির প্রতিটি ঔষধ মানবদেহে পরিক্ষীত (Proved) ফলতঃ কোন প্রকৃ্তির মানবদেহে কোন ঔষধ প্রযোজ্য অর্থাৎ কোন দেহে কোন ঔষধ অমৃততূল্য কাজ করে এবং কোন দেহে কোন ঔষধ ক্ষতি করে তাহা চিকিৎসকের পক্ষে অতি সহজে নির্ণয় করা সম্ভব হয় । উল্লেখ্য যে, কোন কোন চিকিৎসা পদ্ধতির ঔষধসকল অন্য জীব যেমন গিনিপিগের শরীরে পরিক্ষীত হওয়া
র নিমিত্ত যে কোন দেহে রোগ বিশেষের যে কোন ঔষধ বাছ বিচার না করিয়া চিকিৎসক মহাশয় দিতে বাধ্য থাকেন বলিয়া অনেকাংশে লাভ হইলে ও বহুলাংশে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রোগীকে আগামী দিনগুলিতে খেসারত দিতে হয় ।
২) হোমিওপ্যাথির প্রতিটি ঔষধ বহুমূখী ও একই ঔষধ বহুরোগে কার্যকরী, ফলতঃ এখন ও যে পীড়া দেহাভ্যন্তরে Incubation period এ আছে অর্থাৎ যে পীড়া দেহাভ্যন্তরে অবস্থান করিতেছে ,বিকাশলাভ করে নাই । ডাক্তারবাবুর পরীক্ষায় ধরা পড়ার মত অবস্থায় আসে নাই, অথবা রোগীর অনুভব করিবার মত সময় আসে নাই, এমতাবস্থায় রোগী এবং ডাক্তারবাবুর অজ্ঞাতসারে এক রোগের চিকিৎসায় অন্য রোগ ও সমূলে উৎপাটিত হইয়া যায় । শর্ত হইল,যে ডাক্তারবাবু সাধারণ রোগ সারাইতে হোচট খাইয়া রোগিতে যখন constitutional Remedy ব্যবহার করিতে বাধ্য হ'ন । অবশ্য সঠিক ক্রম এবং সঠিক মাত্রা অপরিহার্য ।
৩) অনেকগুলি ঔষধ একাধারে আরগ্যক্রিয়া সম্পন্নকারী এবং রোগীর গঠন, রোগ প্রবণতা, বংশানুক্রমিক প্রবণতা, সংক্রমন প্রবণতা এবং মানসিক বৈকল্য নাশকারী ।
৪) উদাসীন,কর্মব্যস্ত বা কর্মচঞ্চল, স্মরণশক্তিহীন রোগীগণ বার বার ঔষধ সেবনে অপারগ হইলে একমাত্রা বা দুইমাত্রা ঔষধ সেবন করিয়া অনেকদিন পর্যন্ত্য
চিকিৎসীত হইতে পারেন । মূলকারণ, ঔষধ খাদ্য নয় যে কারণে প্রচুর ও প্রতিদিন প্রয়োজন হইবে বরং সুক্ষ্ণ মাত্রাই ঔষধহিসাবে নিজ পরিচয় প্রদান করিতে সক্ষম ।
৫) হোমিওপ্যাথি ঔষধ (শক্তিকৃত) পাকস্থলিতে হজমের পর অথবা রক্তের সহিত মিশ্রনের পর ক্রিয়া করিবার কোন নিয়ম নেই, বরং স্নায়ু সংযোগে মুহুর্তের মধ্যে সারা দেহে ব্যপ্ত হইয়া পড়ে এবং ক্রিয়া প্রকাশ করিয়া থাকে । ফলতঃ ইঞ্জেকশন পদ্ধতিতে রোগীদেহে কোন ঔষধ প্রয়োগ করিবার (স্যালাইন ইত্যাদি) প্রয়োজনই দেখা দেয় না । এই কারণেই তরুন রোগে সঠিক ঔষধের সঠিক মাত্রা প্রয়োগে হোমিওপ্যাথি মন্ত্রবত কার্য করিয়া থাকে
  ।
৬) অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসিত হইলে শতকরা প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত ঔষধের প্রয়োগ আশা করা যায় ।
কেহ বলিতে পারেন যে, হোমিও ঔষধের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আদতেই নাই। আমি বলি ঔষধ হিসাবে সত্যি সত্যিই কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নাই তবে প্রয়োগ হিসাবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনস্বীকার্য । চিকিৎসক এবং ব্যবহারকারীগণকে মনে রাখা কর্ত্তব্য যে, যাহার উপকার করিবার ক্ষমতা আছে, তাহার ক্ষতি করিবার ক্ষমতা ও যোগ্যতা অবশ্যই আছে ।
৭) যে সমস্ত রোগ ক্রনিক এবং রোগী ক্রনিক পীড়ায় আক্রান্ত তাঁহারা সদৃশ্য বিধানমতে চিকিৎসা ব্যতিরেকে কোনদিনই আশা করিতে পারেন না যে তাঁহারা পূণর্স্বাস্থ্য ফিরিয়া পাইবেন । মনে রাখা কর্ত্তব্য, এই সব ক্ষেত্রে এইদিক সেইদিক উদ্ভ্রান্তের মত চিকিৎসা করতঃ সময় নষ্ট করিয়া জীবণি শক্তি বিনষ্ট করতঃ হোমিও চিকিৎসকের দ্বারস্থ হইলে তিনি ও আশানুরুপ উপকার করিতে পারিবেন না ।
     ক্ল্যাসিক্যাল হোমিও সেন্টার
      ডাঙ্গারহাট, দক্ষিণ দিনাজপুর
      মোবাইল কলঃ- 9735002450

No comments:

Post a Comment