Wednesday, 21 September 2011

Statement of facts.

তথ্য-১
t গোয়েন্দাদের মুসলিমদের সাথে মিলেমিশে মাদ্রাসা তৈরি করা এবং মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দখল করার প্রমাণ
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রথম ২৬ জন প্রিন্সিপাল ছিল খৃস্টান। ১৮৫০ থেকে ১৯২৭ খৃঃ পর্যন্ত তারা ঐ পদে ছিল। অর্থাৎ প্রথম ৭৭ বছর ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ছিল খৃস্টান। ঐ প্রিন্সিপালদের নাম হলো-
১. ড. এ. স্প্রেংগার
২. স্যার উইলিয়াম নাসসান লীজ
৩. মিস্টার জে. স্ট্যাকলিপ
৪. মিস্টার হেনরী ফার্ডিন্যান্ড ব্লকম্যান
৫. মিস্টার এ. ই. গ্যাফ
৬. ড. এ. এফ. আর হর্নেল
৭. মিস্টার এইচ. প্রথেরো
৮. ড. এ. এফ. আর হর্নেল
৯. মিস্টার. এফ. জে. রৌ
১০. ড. এ. এফ. আর হর্নেল
১১. মিস্টার এফ. জে. রৌ
১২. ড. এ. এফ. আর হর্নেল
১৩. মিস্টার এফ. জে. রৌ
১৪. মিস্টার এফ. সি. হিল
১৫. স্যার আর্ল স্টেইন
১৬. মিস্টার এইচ. এ. স্টার্ক
১৭. লে. কর্নেল জি. এম. এ. রেংকিং
১৮. মিস্টার এইচ. এ. স্টার্ক
১৯. স্যার এডওয়ার্ড ড্যানিসন রস
২০. এইচ. ই. স্টেপলটন
২১. স্যার এডওয়ার্ড ড্যানিসন রস
২২. মিস্টার চ্যাপম্যান
২৩. স্যার এডওয়ার্ড ড্যানিসন রস
২৪. মিস্টার আলেকজান্ডার হেমিলটন হার্লী
২৫. মিস্টার এম. জে. বটমলী
২৬. মিস্টার আলেকজান্ডার হেমিলটন হার্লী

এ তথ্যের পর্যালোচনা
আলিয়া মাদ্রাসা প্রথমে কোলকাতায় স্থাপন করা হয়। তারপর তা ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়। প্রথম ২৬ জন প্রিন্সিপালের নাম ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের রুমের দেয়ালে টানানো এবং মাওলানা মমতাজ উদ্দীন আহমদ লিখিত (ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত) মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার ইতিহাস বইয়ে লিখিত আছে।

এ তথ্যটি, গোয়েন্দার ডায়রি বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যটির (ইস্তাম্বুলে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অত্যন্ত জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান। তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। মুসলমানদের সাথে মিলে মিশে তারা ছেলেমেয়েদের জন্য মাদ্রাসা খুলছে) সত্যতা প্রমাণ করে। গোয়েন্দারা শুধু মাদ্রাসা তৈরি করে নাই, তারা প্রিন্সিপালও হয়েছে। প্রিন্সিপাল হতে পারলে, মুফাস্‌সির, মুহাদ্দিস, মুফতি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও যে তারা দখল করেছিল তা বুঝা কঠিন নয়। আর যখন তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, সিলেবাস তাদের ইচ্ছামত তৈরি হয়েছে, সিলেবাসের বইয়ে প্রয়োজনীয় মৌলিক ভুল ঢুকানো হয়েছে এবং সহজে ঐ তথ্য কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না, তখন প্রিন্সিপালের দায়িত্ব মুসলমানদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। বিভিন্ন ভাবে, মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকানোর ঐ প্রচেষ্টা তারা এখনো চালু রেখেছে।
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের রুমের দেয়ালে এবং মাওলানা মমতাজ উদ্দীন আহমদ লিখিত মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার ইতিহাস বইয়ে নামগুলো ছদ্ম নয়, প্রকৃত নামে উল্লিখিত আছে। কারণ, ঐ সময় বৃটিশ শাসন চলছিল। তাই ছদ্ম নাম ব্যবহারের প্রয়োজন হয়নি।

বাংলাদেশে যদি এটি হয়ে থাকে তবে অন্য মুসলিম দেশ বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যে এটি হয়েছিল তা নিশ্চয়তা সহকারেই বলা যায়।

তথ্য-২
t সিলেবাসের পঠিত বিষয়ের তালিকায় ভুল ঢুকানোর প্রমাণ
মানুষের জীবনের সকল দিকের মূল কথা কুরআনে উল্লিখিত আছে বলে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন সূরা নাহলের ৮৯ নং আয়াতে। আল-কুরআনের অতি সামান্য অংশে আছে মাসয়ালা-মাসায়েল। কুরআনের অধিকাংশ অংশ দখল করে আছে সমাজনীতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, সাধারণ বিজ্ঞান, অংক, ফিজিক্স, কেমিষ্ট্রি, ভুগোল, বায়োলজী, প্রাণীবিদ্যা, ডাক্তারী বিদ্যা, মহাকাশ বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যা ইত্যাদি। এর মধ্যে বিজ্ঞান দখল করে আছে কুরআনের ১/৮ অংশ। কিন্তু অবাক ব্যাপার হলো আমাদের দেশের কওমী মাদ্রাসার সিলেবাসে আছে শুধু ধর্মীয় বিষয় বা মাসয়ালা-মাসায়েল (বর্তমানে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড খুবই সীমিতভাবে দু’একটি বিষয় চালু করেছে বা করার চেষ্টা করছে)। এর কারণ হিসেবে মাদ্রাসার পাঠ্য বইয়ে উল্লেখ থাকা তথ্য হলো- বস্তুত দ্বীনি ইলম ব্যতীত যত ইলম আছে তা সবই আল্লাহর পথের প্রতিবন্ধক। এ মর্মে আল্লামা রূমির এ শেরটি প্রনিধানযোগ্য-
علمِ دِين فِقهَ اسْت و تفسير و حد يث . هَركه خَواند غَيرازين كردد خبيث .
অর্থঃ ইলমে দ্বীন হল ইলমে ফিক্‌হ, তাফসীর ও হাদীস। এগুলো ছাড়া যে অন্য কিছু অধ্যয়ন করবে সে আল্লাহ বিস্মৃত হতে বাধ্য।
(পৃষ্ঠা নং ১৬, উসূলুশ শাশী, প্রকাশক আল-আকসা লাইব্রেরী, ঢাকা। প্রকাশকাল ০৯. ১১. ২০০৪ ইং)
এ তথ্যের পর্যালোচনা
যে বিষয় অধ্যয়ন করলে মানুষ নিশ্চিতভাবে আল্লাহকে ভুলে যাবে সে বিষয় মাদ্রাসার সিলেবাসে ঢুকা হারাম হবে এটাই স্বাভাবিক। কওমী মাদ্রাসার পরিচালকগণ এ কথাটিকে যে সত্য বলে মেনে নিয়েছেন তার প্রমাণ হলো- কওমী মাদ্রাসার সিলেবাসে ধর্মীয় বিষয় ব্যতীত অন্যকোন বিষয়ের স্থান না পাওয়া।

আল্লামা রূমির শেরটিতে দেখা যায়, ইলমে দ্বীনের উৎস তথা ইসলামী জ্ঞানের উৎস হিসেবে ফিকাহ, তাফসীর ও হাদীসকে উল্লেখ করা হয়েছে। এবং এ তিনটির মধ্যে ফিকাহকে প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিকাহ তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগণের তথা মানুষের তৈরি। তাই তাতে ভুল থাকা খুবই সম্ভব। কুরআন ও সুন্নাহে ভুল নেই কিন্তু তাফসীর ও হাদীসে ভুল থাকতে পারে বা আছে। তাহলে দেখা যায় আল্লামা রুমির শেরটিতে ইসলামী জ্ঞানের উৎস হিসেবে যে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে তাঁর কোনটিই ভুলের উর্ধে নয়। আবার শেরটিতে তাফসীর ও হাদীসের আগে ফিকাহকে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিরাট রহস্য রয়েছে। সামনে বিষয়টির ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস এ শেরটি আল্লামা রূমির নয়। কারণ আল্লামা রূমির ন্যায় ব্যক্তি দ্বীনের উৎস হিসেবে ফিকাহকে কুরআন, সুন্নাহের আগে এবং কুরআনের পরিবর্তে তাফসীর বলবেন এটি হতে পারে না। আমি প্রায় নিশ্চিত, এ শেরটি গোয়েন্দারা তৈরি করে আল্লামা রূমির নামে চালিয়ে দিয়েছে।

তথ্য-৩
t মধ্যপ্রাচ্য থেকে এখনো কুরআনের আয়াতের প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরে নেয়ার চেষ্টা চালু থাকার প্রমাণ
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ
এটি হলো সূরা বাকারার ৩০ নং আয়াতের একটি অংশ। এর অর্থ নিম্নের দু’টির কোনটি হবে বলে শ্রদ্ধেয় পাঠকবৃন্দ মনে করেন?
ক. যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন, নিশ্চয় আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি পাঠাতে যাচ্ছি,
খ. যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন, বস্তুত আমি পৃথিবীতে বংশানুক্রমে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছি।
আমার নিশ্চিত বিশ্বাস আপনারা সবাই বলবেন এ আয়াতাংশের অর্থ প্রথমটি হবে।

আবার যদি শ্রদ্ধেয় পাঠকবৃন্দকে প্রশ্ন করা হয় সূরা আন’আমের ১৬৫ নং আয়াতের নিম্নে উদ্ধৃত অংশের অর্থ, উল্লিখিত দু’টির কোনটি হবে?
وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ الْأَرْضِ ... ... ...
ক. এবং তিনিই তোমাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধি বানিয়েছেন ... ... ...
খ. এবং তিনিই সেই সত্তা যিনি পৃথিবীতে তোমাদের বংশানুক্রমে এক জনকে অন্যের স্হলাভিষিক্ত করেছেন।
এবারও আমার নিশ্চিত বিশ্বাস আপনারা সবাই বলবেন এ অংশের অর্থও প্রথমটি হবে।

সুধী পাঠকবৃন্দ, জেনে অবাক হবেন সৌদি আরবের বাদশা ফাহাদ কমপ্লেক্স থেকে প্রকাশিত ইংরেজী তাফসীরে এ আয়াত দু’খানির অর্থ করা হয়েছে দ্বিতীয়টি। দেখুন সে অর্থ-

বাকারা : ৩০
And (remember) when your lord said to the angels: “Verily, I am going to place (mankind) generation after generation on earth.”
অর্থঃ এবং (স্মরণ কর) যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন, বস্তুত আমি পৃথিবীতে বংশানুক্রমে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছি।

আন’আম : ১৬৫
And it is He Who has made you generations, replacing each other on the earth.
অর্থঃ এবং তিনিই সেই সত্তা যিনি পৃথিবীতে তোমাদের বংশানুক্রমে এক জনকে অন্যের স্হলাভিষিক্ত করেছেন।

THE NOBLE QUR’AN : King Fahd complex for the printing of Holy Qur’an Date- Hijri 21.11.1404 (1983)

BY

Dr. Muhammad Taqi-ud-Din Al-Hilali (Former professor of Islamic faith and teachings, Islamic University, Al Madina Al-Munawwarah)

And

Dr. Muhammad Muhshin Khan (Former director, University Hospital, Islamic University, Al-Madina Al-Munawwarah)

No comments:

Post a Comment