গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম জাতি এবং বিশ্বমানবতার
মূল জ্ঞানে ভুল ঢোকানোর বিষয়টি যে ভাবে জানা যায়
১. ‘ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত এক ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি’ বইয়ের তথ্য
হ্যামফের (Hampher) নামক ব্রিটিশ গোয়েন্দার একটি ডায়রি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানদের হাতে আসে। জার্মান পত্রিকা ‘ইসপিগল’ তা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে। তুরস্কের ‘হাকিকত কিতাবেভী’ প্রকাশনী মূল ডায়রিটি প্রয়োজনীয় টীকা ও সংযোজনীসহ বই আকারে প্রকাশ করে। ইংরেজী বইটি Hakikatkitabevi ওয়েব সাইটে Confessions of a British spy নামে আছে। ‘ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত এক ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি’ নামে, জ্ঞানকোষ প্রকাশনী, বাংলাবাজার, ঢাকা হতে, ২০০৬ সালে ঐ বইটি সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করেছেন মোঃ এ, আর, খান ও এ, জে, আব্দুল মোমেন।
বইটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ, উপস্থাপনা সাবলীল করার জন্য সামান্য পরিবর্তনসহ নিম্নরুপ-
পৃষ্ঠা নং ৬০ : মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারী বললেন, ... ... ... ... ... (মুসলমানদের অধঃপতিত করে) আমরা যে ফল খাচ্ছি তা অন্যরা (পূর্বপুরুষেরা) বপন করেছিল। সুতরাং আমাদের অন্যদের (পরের প্রজন্মের) জন্য বপন করতে হবে’।
ব্যাখ্যাঃ এ বক্তব্য থেকে বুঝা যায়, ষড়যন্ত্র আরম্ভ করা হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের অনেক আগে থেকে। প্রকৃত সত্য হলো, এ ষড়যন্ত্র আরম্ভ করা হয়েছে রাসূল (সঃ) এর এন্তেকালের পর থেকেই।
পৃষ্ঠা নং ১৭ : আমাকে মুসলমানদের মধ্যে উপদল সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজন গোয়েন্দা হিসেবে মিশর, ইরাক, হেজাজ (মক্কা-মদিনা) ও ইস্তাম্বুল প্রেরণ করা হয়। আমাদেরকে অর্থ, তথ্য, ম্যাপ, রাষ্ট্রপ্রধান, গোত্রপ্রধান ও (ইসলামী) বিশেষজ্ঞদের তালিকা দেয়া হয়।
ব্যাখ্যা: একটি জাতির মধ্যে উপদল সৃষ্টির সর্বোত্তম পন্হা হলো তাদের জ্ঞানের ভিতরে ভুল ঢুকিয়ে দেয়া। ভুল পথ হয় অনেকটি। তাই জ্ঞানে ভুল ঢুকিয়ে দিতে পারলে একদল একটি এবং অন্যদল অন্যটি অনুসরণ করে। ফলস্বরূপ জাতি বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যায়। গোয়েন্দারা মুসলিমদের বিভক্ত করার জন্য এ সর্বোত্তম পথটিই যে বেছে নিয়েছিল আমরা পরে তাদের কথা থেকে এটি সরাসরি জানতে পারব। বাস্তবেও দেখবেন মুসলিমদের মধ্যে বর্তমানে অসংখ্য উপদল থাকার মূল কারণ হলো জ্ঞানের পার্থক্য।
পৃষ্ঠা নং ১৭ : ইসলামী খেলাফতের কেন্দ্র ইস্তাম্বুলে পৌঁছে আমি স্থানীয় মুসলমানদের মাতৃভাষা তুর্কি রপ্ত করা আরম্ভ করি এবং তুর্কি ভাষার খুটিনাটি সম্পর্কেও শিক্ষা গ্রহণ করি। আমি আমার নাম মুহাম্মাদ বলি, এবং মসজিদে যাওয়া শুরু করি।
ব্যাখ্যা: গোয়েন্দাগিরীর এটিই সাধারণ নিয়ম। কাজে সফল হওয়ার জন্য, যে দেশে তারা কাজ করে ভাষা, ধর্ম, চাল-চলন ইত্যাদি দিক দিয়ে সে দেশের মানুষের সাথে তাদের মিশে যেতে হয়।
পৃষ্ঠা নং ১৮ : ইস্তাম্বুলে আহম্মদ ইফেন্দি নামক এক বৃদ্ধ পন্ডিতের (ইসলামের বিশেষজ্ঞ) সাথে সাক্ষাৎ করি। এ ব্যক্তি হযরত মুহাম্মাদ এর আদর্শ অনুসরণে নিজকে দিন-রাত ব্যস্ত রাখতেন। একদিন আমি আহম্মদ ইফেন্দিকে বলি, আমার পিতামাতা মারা গেছেন, কোন ভাই বোন নেই এবং কোন সম্পত্তিও নেই। জীবিকা অর্জন এবং কুরআন ও সুন্নাহ শিক্ষা লাভ করার জন্যে ইসলামের কেন্দ্র ইস্তাম্বুলে এসেছি। যাতে আমার রোজগার ইহকাল ও পরকালে কাজে লাগে। তিনি আমার এ কথা শুনে খুবই আনন্দিত হলেন।
ব্যাখ্যা: এটিও গোয়েন্দাগিরীর একটি সাধারণ নিয়ম। নানা রকম ধোঁকাবাজী মূলক কথা বা প্রলোভন দেখিয়ে তারা মানুষের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে।
পৃষ্ঠা নং ২০ : কাজ শেষে আমি আসরের নামাজ পড়তে মসজিদে যেতাম এবং মাগরিব পর্যন্ত সেখানে থাকতাম। মাগরিবের পর আমি আহম্মদ ইফেন্দির বাড়িতে যেতাম। তিনি আমাকে আরবী ও তুর্কি ভাষায়, অতি উত্তমভাবে, দুই ঘণ্টা কুরআন শিক্ষা দিতেন।
পৃষ্ঠা নং ১৮ : আহম্মদ ইফেন্দির মাধ্যমে দুই বছরে আমি সমগ্র কুরআন অধ্যয়ন শেষ করি।
পৃষ্ঠা নং ২২ : প্রথম মিশনে আমি সন্দেহাতীতভাবে তুর্কি, আরবী, কুরআন ও শরীয়াত শিক্ষায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছিলাম। প্রথম মিশন শেষে লন্ডনে ফেরার পর সফলতার দিক দিয়ে আমাকে ৩য় স্থান দেয়া হয়।
ব্যাখ্যা: এ বিশেষ গোয়েন্দা আরবী, কুরআন ও শরীয়াত শিক্ষায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করা সত্ত্বেও সাফল্যের দিক দিয়ে তাকে তৃতীয় স্থান দেয়া হয়। অর্থাৎ সাফল্যের বিবেচনায় তার চেয়ে বেশি সফল হওয়া আরো গোয়েন্দা ছিল।
পৃষ্ঠা নং ২২ : সেক্রেটারী জানান পরবর্তী মিশনে আমার দু’টি কাজ-
মুসলমানদের দুর্বল (বিশেষ করে জ্ঞানের) জায়গাগুলো খুঁজে বের করা,
ঐ পথে তাদের দেহে প্রবেশ করা ও তাদের জোড়াগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া।
শত্রুকে পরাজিত করার এটিই মূল পথ
ব্যাখ্যা: এখান থেকে জানা যায় যে, একটি জাতিকে অধঃপতিত করার সবচেয়ে ফলপ্রসু পদ্ধতি (মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকিয়ে দেয়ার পদ্ধতি) অনুসরণ করে কাজ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল এ গোয়েন্দাদের।
পৃষ্ঠা নং ৩২: দ্বিতীয় মিশনে ইরাকের বসরায় পৌঁছে আমি ইসলামের এক (বিশিষ্ট) ব্যক্তির সাথে মধুর বন্ধুত্ব স্থাপন করি। সে এবং আমি মিলে কুরআনের নতুন ব্যাখ্যা দিতে আরম্ভ করি। আমার উদ্দেশ্য ছিল তাকে ভুল পথে পরিচালিত করা।
ব্যাখ্যা: এখান থেকে জানা যায় গোয়েন্দারা ইসলামী বিশেষজ্ঞদের ধোঁকা দিয়ে বা নিজে বিশেষজ্ঞ সেজে ইসলামের জ্ঞানে ভুল ঢুকায়।
পৃষ্ঠা নং ৬০: ইস্তাম্বুলে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অত্যন্ত জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান। তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। মুসলমানদের সাথে মিলে মিশে তারা ছেলেমেয়েদের জন্যে মাদ্রাসা খুলছে ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...
ব্যাখ্যা: এখান থেকে জানা যায়, গোয়েন্দারা মুসলমানদের সাথে মিলে মিশে মাদ্রাসা খুলেছিল। একটি জাতির মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকানোর সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো, জাতির যে ব্যক্তিগণ লেখা-পড়া করে জ্ঞানী হবে এবং সমাজে জ্ঞান প্রচার করবে তাদের জ্ঞানের মধ্যে ভুল ঢুকিয়ে দেয়া। আর এ কাজটি করার সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো মাদ্রাসার সিলেবাসে ভুল ঢুকিয়ে দেয়া। এজন্যেই গোয়েন্দারা মুসলমানদের সাথে মিলে মিশে ছেলেমেয়েদের জন্যে মাদ্রাসা খুলেছিল। আর এটি বুঝা মোটেই কঠিন নয় যে, মাদ্রাসা খোলার পর তারা এমন স্থানগুলো দখল করেছিল যেখানে নিয়ন্ত্রণ থাকলে সিলেবাসে ভুল ঢুকানো সহজ হয়। সে পদগুলো পিওন বা কেরানি অবশ্যই হবে না। সে পদগুলো অবশ্যই হবে, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, মুফাস্সির, মুহাদ্দিস, মুফতি ইত্যাদী।
২. দৈনিক ইনকিলাবে ০২.০৪.৯৮ ইং তারিখে প্রকাশিত ‘বৃটেনের মাটির তলায় খৃস্টানদের গোপন মাদ্রাসা’ প্রতিবেদনের তথ্য
প্রতিবেদনটি ভারতের উর্দু পাক্ষিক সাময়িকী ‘তামির-ই-হায়াত’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুবাদ। প্রতিবেদনটির বিষয়বস্তু হলো - ভারতের নওয়াব ছাতারীর দেখা এক স্থাপনা এবং তার কার্যক্রম। প্রতিবেদনটির মূল বক্তব্য, একটু গুছিয়ে নিম্নে উপস্থাপন করা হলো-
নওয়াব ছাতারী আলিগড়ের জমিদার ছিলেন। তিনি মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের বিরোধী এবং ভারতে ব্রিটিশ প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠায় ইংরেজদের সার্বিক সহযোগী ছিলেন। আনুগত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ইংরেজ সরকার কর্তৃক তিনি উত্তর প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন। (মতবাদের মিল থাকার কারণে) যে সব ইংরেজ কালেক্টর পোস্টিং নিয়ে আলীগড়ে আসতেন নবাবের সাথে তাদের মধুর ও গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠতো। একবার ব্রিটিশ সরকার ভারতের সকল গভর্নরকে বৃটেনে ডাকেন। নওয়াব ছাতারীও তখন বৃটেনে যান। ঐ সময় বৃটেনে অবস্থানকারী পুরাতন বন্ধু অনেক অবসরপ্রাপ্ত কালেক্টর ও কমিশনার গভর্নর ছাতারীর সাথে সাক্ষাত করেন। কালেক্টরদের মধ্যে একজন ছিলেন নবাব সাহেবের ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার অনেক কাছের ব্যক্তি। ঘনিষ্ঠতম কালেক্টর, যাদুঘর ও হাজার বছরের পুরাতন অত্যাশ্চর্য দর্শনীয় বস্তু যা নওয়াব কখনো চোখে দেখেনি বা কানে শুনেনি, তা দেখাতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করেন। নবাব সাহেব বলেন ‘ঐগুলো আমি আগে দেখেছি, তাই আপনি আমাকে এমন কোন বস্তু দেখাতে পারেন যা কোন ভিনদেশী আগে দেখেনি’। কালেক্টর সাহেব বললেন ‘নবাব সাহেব এমন কি বস্তু হতে পারে যা কোন ভিনদেশী আগে দেখেনি? যাক আমি ভেবে-চিন্তে পরে বলবো’। দু’দিন পর কালেক্টর সাহেব বললেন ‘নবাব সাহেব আমি ইতোমধ্যে খোঁজ-খবর নিয়েছি। আপনাকে এমন জিনিস দেখাবো যা কোন ভিনদেশী কখনো দেখেনি’। দু’দিন পর কালেক্টর সাহেব সরকারের লিখিত অনুমতিসহ নবাব সাহেবের অতিথিশালায় পৌঁছে অত্যাশ্চর্য বস্তু দেখার কর্মসুচী তৈরি করেন। কালেক্টর সাহেব বললেন ‘আমার ব্যক্তিগত গাড়িতে যেতে হবে। এই ভ্রমণে সরকারী গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না’। পরের দিন তারা দু’জন অত্যাশ্চর্যবস্তু দেখতে বের হলেন। শহর-নগর পেরিয়ে ছোট একটি সড়ক দিয়ে গাড়ি যতো এগোতে থাকলো ততো গভীর অরণ্য। কোন যাত্রী বা পথিক চোখে পড়ে না। এভাবে আধাঘন্টার বেশি সময় চলার পর একটি বিরাট গেটের সামনে তারা গাড়ি থেকে নামেন। উভয় পাশে সশস্ত্র সৈন্যের সতর্ক প্রহরা দেখা গেল। কালেক্টর গাড়ি থেকে নেমে পাসপোর্ট ও সরকারি অনুমতিপত্র গেটে জমা দিয়ে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি লাভ করেন। কর্মকর্তারা বলে দিলেন এখন নিজেদের গাড়ি রেখে তাদের গাড়ি ব্যবহার করতে হবে। দু’দেয়ালের মধ্যদিয়ে গাড়ি চলতে লাগলো। সুনিবিড় জঙ্গল আর বৃক্ষলতা ভিন্ন আরকিছু দেখা যায় না। এভাবে কিছুক্ষণ চলার পর সামনে একটি প্রাসাদ দেখা গেল। কালেক্টর সাহেব বললেন, ‘প্রাসাদে প্রবেশের পর থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত আপনি আমাকে কোন প্রশ্ন করবেন না। একেবারে চুপচাপ থাকবেন। আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে বাসায় ফিরে উত্তর দেব’। প্রাসাদের কিছু দূরে গাড়ি রেখে তারা পায়ে হেঁটে চললেন। বিপুল সংখ্যক কক্ষ সম্পন্ন প্রাসাদটি গগনচুম্বী ও অতিকায়। কালেক্টর সাহেব নবাব সাহেবকে একটি কক্ষের সামনে দাঁড় করালেন যেখানে আরবী পোশাক পরিহিত বিপুল ছাত্র মাটির বিছানায় বসে সবক নিচ্ছে। যেমন আমাদের দেশের মাদ্রাসা ছাত্ররা নেয়। ছাত্ররা আরবী ও ইংরেজী ভাষায় উস্তাদের নিকট প্রশ্ন করছে। আর উস্তাদ সুন্দর ও সাবলীল ভঙ্গিতে ঐ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। কালেক্টর সাহেব এভাবে নবাব সাহেবকে প্রতিটি কক্ষ এবং সেখানে যে সকল বিষয়ে শিক্ষা ও বাস্তব ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে তা ঘুরে ঘুরে দেখান। নবাব সাহেব এভাবে অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করেন যে- কোন কক্ষে কিরায়াত শিখানো হচ্ছে, কোথাও কুরআনুল কারীমের অর্থ ও তাফসীর শিখানো হচ্ছে, কোথাও বুখারী ও মুসলিম শরীফের সবক চলছে, কোথাও মাসয়ালা নিয়ে বিশদ আলোচনা চলছে, কোথাও হচ্ছে ইসলামী পরিভাষার উপর বিশেষ অনুশীলন, একটি কক্ষে দেখা গেলো ধর্মীয়তত্ব নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে রীতিমত আনুষ্ঠানিক বিতর্ক চলছে। নবাব সাহেব এসব দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেন এবং একজন ছাত্রের সাথে কথা বলতে চাইলেন। কিন্তু কালেক্টর সাহেব তাকে ইশারা করে চুপ থাকতে বললেন। বাসায় ফিরে নবাব সাহেব বললেন, এতবড় দ্বীনি মাদ্রাসা যেখানে দ্বীনের প্রতিটি বিষয় উন্নত পদ্ধতিতে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে এবং ইসলামের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা হচ্ছে, দেখে ভালো লেগেছে। কিন্তু এসব মুসলিম ছাত্রকে এই দূরবর্তী জায়গায় বন্দী করে কেন রাখা হয়েছে? কালেক্টর সাহেব উত্তর দিলেন, ‘এসব ছাত্ররা একজনও মুসলিম নয়। সব খৃস্টান মিশনারী’। নবাব সাহেব আরো আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এর কারণ কি?’ কালেক্টর সাহেব উত্তর দিলেন, ‘সুড়ঙ্গ পথে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠান থেকে লিখাপড়া শেষ করে ছাত্রদের মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়। (গোয়েন্দা আলিমদের বিশেষকরে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর কারণ হলো- মধ্যপ্রাচ্য হলো ইসলামের উৎস। তাই মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোন বিশেষজ্ঞ ইসলামের কোন কথা বললে তা সারা মুসলিম বিশ্বে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়)। সেখানে তারা নানান ছলে বলে কৌশলে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, ছোট বাচ্চাদের কুরআনের গৃহ শিক্ষক, মাদ্রাসার মুহাদ্দীস বা মুফতি হিসেবে ঢুকে পড়ে। যেহেতু তারা আরবী সাহিত্য ও ইসলামী বিষয়ে পারদর্শী তাই তাদের নিয়োগ পেতে অসুবিধা হয় না। অনেক সময় ধোঁকা দেয়ার জন্য তারা বলে, আমরা ইংরেজ এবং ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত আলিম। আমাদের অনেকে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা লাভ করা। নিজ দেশে দ্বীনি পরিবেশ, বড় মাদ্রাসা এবং পর্যাপ্ত মসজিদ না থাকায় আমরা এখানে এসেছি। শুধু দু’মুঠো ভাত ও মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই পেলেই চলবে। আমরা আল্লাহর দ্বীনের জন্য সবকিছু কোরবান করতে প্রস্তুত।’ এভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঢুকে গিয়ে তারা ষড়যন্ত্র শুরু করে দেয়। বিভিন্ন পদ্ধতিতে (বিশেষ করে ইসলামের জ্ঞানের মধ্যে ভুল ঢুকিয়ে) বিভেদ এবং অনৈক্য সৃষ্টির জন্য তারা অত্যন্ত তৎপর থাকে। একবার বিভেদের বীজ বপন করতে পারলে, ইন্ধন যুগিয়ে তারা মুসলমানদের বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত করে রক্তপাতও ঘটায়। সামান্য একটি ইসলামী বিষয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্টি করে দেয় দাঙ্গা হাঙ্গামার।
৩. ‘তথ্য সন্ত্রাসের কবলে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ’ পুস্তিকায় উল্লিখিত তথ্য
ইসলামী শিক্ষার কেন্দ্রগুলো ধ্বংসের দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করার জন্য তারা (ইহুদী-খৃস্টান চক্র) প্রথম ধাপে আরব বিশ্বের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। সেমতে সর্বপ্রথম ইহুদীরা মিশর ও ইসরাইলের মাঝে সমঝোতা করায়। অতঃপর উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে দৃঢ় ও সুসংহত করার লক্ষ্যে এক তরফা মিশরের নিকট দাবী করে যে, মিশরের শিক্ষা সিলেবাস থেকে এমন সব মৌলিক দ্বীনি আকিদা-বিশ্বাস ও নৈতিক শিক্ষাকে বাদ দিতে হবে যা উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্ক মজবুত ও সুসংহত হওয়ার পথে অন্তরায়। সাবেক ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী মানাহেম বেগান মিশর সফরকালে মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট আনওয়ার সাদাতকে বলেছিলেন, ইসরাইল ও মিশরের মধ্যকার সুসম্পর্ক কিভাবে মজবুত ও সুসংহত হবে, অথচ মিশরী নাগরিক কুরআনের এই আয়াত (মায়িদাঃ৭৮) পড়ছে যাতে ইসরাইলের নিন্দা করা হয়েছে। ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...
আনোয়ার সাদাত সাথে সাথে মিশরের শিক্ষা মন্ত্রীকে নির্দেশ দিলেন, সিলেবাসের দিকে দৃষ্টি দেয়া হোক এবং এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করলেন যার মধ্যে আমেরিকা, ইসরাইল ও মিশরের শিক্ষাবিদদের সদস্য করা হয়। তাদের কাজ দেয়া হয়. বর্তমান সিলেবাস পর্যালোচনা করে একটি সুপারিশ পেশ করা, যার আলোকে এমন একটি নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করা হবে যা হবে সেক্যুলার ও ধর্মহীন। মুসলিম বিশ্বের দীন ও ধর্মীয় শিক্ষাকে নির্মূল করার জন্য আমেরিকা মুসলিম বিশ্বকে সাহায্য দেয়ার ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করলো যে, যেসব মুসলিম ও আরব দেশ তাদের শিক্ষা সিলেবাস পরিবর্তন করে যুগের চাহিদার সাথে সমন্বয় করবে, তাদেরকেই কেবল সাহায্য দেয়া হবে। মিশর এ ক্ষেত্রে আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে ১৯৮১-২০০১ ইং সাল পর্যন্ত ১৮৫ মিলিয়ন ডলারের সাহায্য কেবল শিক্ষা উন্নয়নের জন্য দেয়া হয়।
তেলআবিবে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় যেখানে মিশরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা খলিল এবং জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ড. বুট্রোস ঘালি অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারের বিষয় ছিল ‘আরব ইসরাইল সম্পর্ক স্হিতিশীলতায় কুরআনের প্রভাব-প্রতিক্রিয়া’। উক্ত সেমিনারে ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মানাহেম বেগান পরিস্কার দাবি করেন, ‘ঐ সব মাদ্রাসা ও প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেয়া হোক যেখানে কুরআন পড়ানো হয়’।
(তথ্য সন্ত্রাসের কবলে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ। মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী, জেনারেল সেক্রেটারী, লন্ডনভিত্তিক ওয়ার্লড ইসলামিক ফোরাম, বাংলাদেশ ব্যুরো। রিমঝিম প্রকাশনী, বাংলা বাজার, ঢাকা। প্রকাশকাল নভেম্বর ২০০৯। পৃষ্ঠা নং ২৬-২৭।)
ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত এক ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি বই, বৃটেনের মাটির তলায় খৃস্টানদের গোপন মাদ্রাসা প্রতিবেদন এবং তথ্য সন্ত্রাসের কবলে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ পুস্তিকার সারসংক্ষেপ
ইসলামের শত্রুরা, ইসলামের মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকিয়ে মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য হাজার হাজার গোয়েন্দা হিজাজ (মক্কা-মদিনা), মিশর, ইরাক, ইস্তাম্বুল, ইরানসহ সকল মুসলিম দেশে পাঠায়।
ঐ গোয়েন্দাদের গোপন মাদ্রাসায় শিক্ষা দিয়ে অথবা আরবদেশে পাঠিয়ে মুসলিম বিশেষজ্ঞদের সান্নিধ্যে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করিয়ে, কুরআন, হাদীস ও শরীয়ায় পারদর্শী আলিম হিসেবে তৈরি করা হয়।
গোয়েন্দারা আলিম হিসেবে মুসলিম দেশ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল. ভাইস প্রিন্সিপাল, শিক্ষক, মুফাস্সীর, মুহাদ্দীস, মুফতি, মসজিদের খতিব, শিশুদের আরবী গৃহ শিক্ষক ইত্যাদি হিসেবে চাকরি নেয়।
ঐ গোয়েন্দা আলিমরা মুসলিম দেশ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশেষজ্ঞদের ধোঁকা দিয়ে কুরআন-হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করিয়ে বা নিজে বিশেষজ্ঞ সেজে ভুল ব্যাখ্যা করে, ভুল তথ্য তৈরি করে।
গোয়েন্দা আলিমরা মুসলমানদের সাথে মিলেমেশে মাদ্রাসা তৈরি করে।
অতঃপর তৈরি করা ভুল তথ্যগুলো বিভিন্নভাবে, বিশেষ করে ফিকাহ শাস্ত্র ও মাদ্রাসার সিলেবাসে ঢুকিয়ে মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ব্যবস্থা করে।
ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই তারা এ কাজ শুরু করে এবং ঐ কাজ এখনো চলছে।
ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি বই এবং পত্রিকার প্রতিবেদনটির অধিকাংশ বক্তব্য সত্য হওয়ার প্রমাণ
আল্লাহ ও রাসূল (সঃ) বাদে অন্য কারো বক্তব্য অন্ধভাবে মেনে নেয়া সকল মুসলিমের জন্য শিরক অথবা কুফরীর গুনাহ। কোন মুসলিম যদি কোন ব্যক্তির বক্তব্যকে এ কারণে মেনে নেয় যে ব্যক্তিটি অত্যন্ত জ্ঞানী তাই তার ভুল হতে পারে না, তবে এতে শিরকের গুনাহ হবে। কারণ, নির্ভুলতা শুধু আল্লাহর গুণ। আর কোন মুসলিম যদি কোন ব্যক্তির বক্তব্যকে এ কারণে মেনে নেয় যে ব্যক্তিটি অত্যন্ত জ্ঞানী পক্ষান্তরে তার ইসলামের কোন জ্ঞান নেই। তবে এতে তার আল্লাহর একটি বড় নিয়ামত বিবেককে অস্বীকার করার (কুফরীর) গুনাহ হবে। যার বিবেক জাগ্রত আছে সে ইসলামের অনেক তথ্য জানে।
তাই, ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি বই এবং পত্রিকার প্রতিবেদনটি পড়ার পর আমি তথায় উল্লিখিত বিস্ময়কর তথ্যগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করি। এটি করতে যেয়ে আমি যে তথ্যসমূহ পেয়েছি তা হলো-
তথ্য-১ in next.
মূল জ্ঞানে ভুল ঢোকানোর বিষয়টি যে ভাবে জানা যায়
১. ‘ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত এক ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি’ বইয়ের তথ্য
হ্যামফের (Hampher) নামক ব্রিটিশ গোয়েন্দার একটি ডায়রি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানদের হাতে আসে। জার্মান পত্রিকা ‘ইসপিগল’ তা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে। তুরস্কের ‘হাকিকত কিতাবেভী’ প্রকাশনী মূল ডায়রিটি প্রয়োজনীয় টীকা ও সংযোজনীসহ বই আকারে প্রকাশ করে। ইংরেজী বইটি Hakikatkitabevi ওয়েব সাইটে Confessions of a British spy নামে আছে। ‘ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত এক ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি’ নামে, জ্ঞানকোষ প্রকাশনী, বাংলাবাজার, ঢাকা হতে, ২০০৬ সালে ঐ বইটি সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করেছেন মোঃ এ, আর, খান ও এ, জে, আব্দুল মোমেন।
বইটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ, উপস্থাপনা সাবলীল করার জন্য সামান্য পরিবর্তনসহ নিম্নরুপ-
পৃষ্ঠা নং ৬০ : মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারী বললেন, ... ... ... ... ... (মুসলমানদের অধঃপতিত করে) আমরা যে ফল খাচ্ছি তা অন্যরা (পূর্বপুরুষেরা) বপন করেছিল। সুতরাং আমাদের অন্যদের (পরের প্রজন্মের) জন্য বপন করতে হবে’।
ব্যাখ্যাঃ এ বক্তব্য থেকে বুঝা যায়, ষড়যন্ত্র আরম্ভ করা হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের অনেক আগে থেকে। প্রকৃত সত্য হলো, এ ষড়যন্ত্র আরম্ভ করা হয়েছে রাসূল (সঃ) এর এন্তেকালের পর থেকেই।
পৃষ্ঠা নং ১৭ : আমাকে মুসলমানদের মধ্যে উপদল সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজন গোয়েন্দা হিসেবে মিশর, ইরাক, হেজাজ (মক্কা-মদিনা) ও ইস্তাম্বুল প্রেরণ করা হয়। আমাদেরকে অর্থ, তথ্য, ম্যাপ, রাষ্ট্রপ্রধান, গোত্রপ্রধান ও (ইসলামী) বিশেষজ্ঞদের তালিকা দেয়া হয়।
ব্যাখ্যা: একটি জাতির মধ্যে উপদল সৃষ্টির সর্বোত্তম পন্হা হলো তাদের জ্ঞানের ভিতরে ভুল ঢুকিয়ে দেয়া। ভুল পথ হয় অনেকটি। তাই জ্ঞানে ভুল ঢুকিয়ে দিতে পারলে একদল একটি এবং অন্যদল অন্যটি অনুসরণ করে। ফলস্বরূপ জাতি বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যায়। গোয়েন্দারা মুসলিমদের বিভক্ত করার জন্য এ সর্বোত্তম পথটিই যে বেছে নিয়েছিল আমরা পরে তাদের কথা থেকে এটি সরাসরি জানতে পারব। বাস্তবেও দেখবেন মুসলিমদের মধ্যে বর্তমানে অসংখ্য উপদল থাকার মূল কারণ হলো জ্ঞানের পার্থক্য।
পৃষ্ঠা নং ১৭ : ইসলামী খেলাফতের কেন্দ্র ইস্তাম্বুলে পৌঁছে আমি স্থানীয় মুসলমানদের মাতৃভাষা তুর্কি রপ্ত করা আরম্ভ করি এবং তুর্কি ভাষার খুটিনাটি সম্পর্কেও শিক্ষা গ্রহণ করি। আমি আমার নাম মুহাম্মাদ বলি, এবং মসজিদে যাওয়া শুরু করি।
ব্যাখ্যা: গোয়েন্দাগিরীর এটিই সাধারণ নিয়ম। কাজে সফল হওয়ার জন্য, যে দেশে তারা কাজ করে ভাষা, ধর্ম, চাল-চলন ইত্যাদি দিক দিয়ে সে দেশের মানুষের সাথে তাদের মিশে যেতে হয়।
পৃষ্ঠা নং ১৮ : ইস্তাম্বুলে আহম্মদ ইফেন্দি নামক এক বৃদ্ধ পন্ডিতের (ইসলামের বিশেষজ্ঞ) সাথে সাক্ষাৎ করি। এ ব্যক্তি হযরত মুহাম্মাদ এর আদর্শ অনুসরণে নিজকে দিন-রাত ব্যস্ত রাখতেন। একদিন আমি আহম্মদ ইফেন্দিকে বলি, আমার পিতামাতা মারা গেছেন, কোন ভাই বোন নেই এবং কোন সম্পত্তিও নেই। জীবিকা অর্জন এবং কুরআন ও সুন্নাহ শিক্ষা লাভ করার জন্যে ইসলামের কেন্দ্র ইস্তাম্বুলে এসেছি। যাতে আমার রোজগার ইহকাল ও পরকালে কাজে লাগে। তিনি আমার এ কথা শুনে খুবই আনন্দিত হলেন।
ব্যাখ্যা: এটিও গোয়েন্দাগিরীর একটি সাধারণ নিয়ম। নানা রকম ধোঁকাবাজী মূলক কথা বা প্রলোভন দেখিয়ে তারা মানুষের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে।
পৃষ্ঠা নং ২০ : কাজ শেষে আমি আসরের নামাজ পড়তে মসজিদে যেতাম এবং মাগরিব পর্যন্ত সেখানে থাকতাম। মাগরিবের পর আমি আহম্মদ ইফেন্দির বাড়িতে যেতাম। তিনি আমাকে আরবী ও তুর্কি ভাষায়, অতি উত্তমভাবে, দুই ঘণ্টা কুরআন শিক্ষা দিতেন।
পৃষ্ঠা নং ১৮ : আহম্মদ ইফেন্দির মাধ্যমে দুই বছরে আমি সমগ্র কুরআন অধ্যয়ন শেষ করি।
পৃষ্ঠা নং ২২ : প্রথম মিশনে আমি সন্দেহাতীতভাবে তুর্কি, আরবী, কুরআন ও শরীয়াত শিক্ষায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছিলাম। প্রথম মিশন শেষে লন্ডনে ফেরার পর সফলতার দিক দিয়ে আমাকে ৩য় স্থান দেয়া হয়।
ব্যাখ্যা: এ বিশেষ গোয়েন্দা আরবী, কুরআন ও শরীয়াত শিক্ষায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করা সত্ত্বেও সাফল্যের দিক দিয়ে তাকে তৃতীয় স্থান দেয়া হয়। অর্থাৎ সাফল্যের বিবেচনায় তার চেয়ে বেশি সফল হওয়া আরো গোয়েন্দা ছিল।
পৃষ্ঠা নং ২২ : সেক্রেটারী জানান পরবর্তী মিশনে আমার দু’টি কাজ-
মুসলমানদের দুর্বল (বিশেষ করে জ্ঞানের) জায়গাগুলো খুঁজে বের করা,
ঐ পথে তাদের দেহে প্রবেশ করা ও তাদের জোড়াগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া।
শত্রুকে পরাজিত করার এটিই মূল পথ
ব্যাখ্যা: এখান থেকে জানা যায় যে, একটি জাতিকে অধঃপতিত করার সবচেয়ে ফলপ্রসু পদ্ধতি (মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকিয়ে দেয়ার পদ্ধতি) অনুসরণ করে কাজ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল এ গোয়েন্দাদের।
পৃষ্ঠা নং ৩২: দ্বিতীয় মিশনে ইরাকের বসরায় পৌঁছে আমি ইসলামের এক (বিশিষ্ট) ব্যক্তির সাথে মধুর বন্ধুত্ব স্থাপন করি। সে এবং আমি মিলে কুরআনের নতুন ব্যাখ্যা দিতে আরম্ভ করি। আমার উদ্দেশ্য ছিল তাকে ভুল পথে পরিচালিত করা।
ব্যাখ্যা: এখান থেকে জানা যায় গোয়েন্দারা ইসলামী বিশেষজ্ঞদের ধোঁকা দিয়ে বা নিজে বিশেষজ্ঞ সেজে ইসলামের জ্ঞানে ভুল ঢুকায়।
পৃষ্ঠা নং ৬০: ইস্তাম্বুলে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অত্যন্ত জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান। তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। মুসলমানদের সাথে মিলে মিশে তারা ছেলেমেয়েদের জন্যে মাদ্রাসা খুলছে ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...
ব্যাখ্যা: এখান থেকে জানা যায়, গোয়েন্দারা মুসলমানদের সাথে মিলে মিশে মাদ্রাসা খুলেছিল। একটি জাতির মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকানোর সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো, জাতির যে ব্যক্তিগণ লেখা-পড়া করে জ্ঞানী হবে এবং সমাজে জ্ঞান প্রচার করবে তাদের জ্ঞানের মধ্যে ভুল ঢুকিয়ে দেয়া। আর এ কাজটি করার সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো মাদ্রাসার সিলেবাসে ভুল ঢুকিয়ে দেয়া। এজন্যেই গোয়েন্দারা মুসলমানদের সাথে মিলে মিশে ছেলেমেয়েদের জন্যে মাদ্রাসা খুলেছিল। আর এটি বুঝা মোটেই কঠিন নয় যে, মাদ্রাসা খোলার পর তারা এমন স্থানগুলো দখল করেছিল যেখানে নিয়ন্ত্রণ থাকলে সিলেবাসে ভুল ঢুকানো সহজ হয়। সে পদগুলো পিওন বা কেরানি অবশ্যই হবে না। সে পদগুলো অবশ্যই হবে, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, মুফাস্সির, মুহাদ্দিস, মুফতি ইত্যাদী।
২. দৈনিক ইনকিলাবে ০২.০৪.৯৮ ইং তারিখে প্রকাশিত ‘বৃটেনের মাটির তলায় খৃস্টানদের গোপন মাদ্রাসা’ প্রতিবেদনের তথ্য
প্রতিবেদনটি ভারতের উর্দু পাক্ষিক সাময়িকী ‘তামির-ই-হায়াত’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুবাদ। প্রতিবেদনটির বিষয়বস্তু হলো - ভারতের নওয়াব ছাতারীর দেখা এক স্থাপনা এবং তার কার্যক্রম। প্রতিবেদনটির মূল বক্তব্য, একটু গুছিয়ে নিম্নে উপস্থাপন করা হলো-
নওয়াব ছাতারী আলিগড়ের জমিদার ছিলেন। তিনি মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের বিরোধী এবং ভারতে ব্রিটিশ প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠায় ইংরেজদের সার্বিক সহযোগী ছিলেন। আনুগত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ইংরেজ সরকার কর্তৃক তিনি উত্তর প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন। (মতবাদের মিল থাকার কারণে) যে সব ইংরেজ কালেক্টর পোস্টিং নিয়ে আলীগড়ে আসতেন নবাবের সাথে তাদের মধুর ও গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠতো। একবার ব্রিটিশ সরকার ভারতের সকল গভর্নরকে বৃটেনে ডাকেন। নওয়াব ছাতারীও তখন বৃটেনে যান। ঐ সময় বৃটেনে অবস্থানকারী পুরাতন বন্ধু অনেক অবসরপ্রাপ্ত কালেক্টর ও কমিশনার গভর্নর ছাতারীর সাথে সাক্ষাত করেন। কালেক্টরদের মধ্যে একজন ছিলেন নবাব সাহেবের ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার অনেক কাছের ব্যক্তি। ঘনিষ্ঠতম কালেক্টর, যাদুঘর ও হাজার বছরের পুরাতন অত্যাশ্চর্য দর্শনীয় বস্তু যা নওয়াব কখনো চোখে দেখেনি বা কানে শুনেনি, তা দেখাতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করেন। নবাব সাহেব বলেন ‘ঐগুলো আমি আগে দেখেছি, তাই আপনি আমাকে এমন কোন বস্তু দেখাতে পারেন যা কোন ভিনদেশী আগে দেখেনি’। কালেক্টর সাহেব বললেন ‘নবাব সাহেব এমন কি বস্তু হতে পারে যা কোন ভিনদেশী আগে দেখেনি? যাক আমি ভেবে-চিন্তে পরে বলবো’। দু’দিন পর কালেক্টর সাহেব বললেন ‘নবাব সাহেব আমি ইতোমধ্যে খোঁজ-খবর নিয়েছি। আপনাকে এমন জিনিস দেখাবো যা কোন ভিনদেশী কখনো দেখেনি’। দু’দিন পর কালেক্টর সাহেব সরকারের লিখিত অনুমতিসহ নবাব সাহেবের অতিথিশালায় পৌঁছে অত্যাশ্চর্য বস্তু দেখার কর্মসুচী তৈরি করেন। কালেক্টর সাহেব বললেন ‘আমার ব্যক্তিগত গাড়িতে যেতে হবে। এই ভ্রমণে সরকারী গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না’। পরের দিন তারা দু’জন অত্যাশ্চর্যবস্তু দেখতে বের হলেন। শহর-নগর পেরিয়ে ছোট একটি সড়ক দিয়ে গাড়ি যতো এগোতে থাকলো ততো গভীর অরণ্য। কোন যাত্রী বা পথিক চোখে পড়ে না। এভাবে আধাঘন্টার বেশি সময় চলার পর একটি বিরাট গেটের সামনে তারা গাড়ি থেকে নামেন। উভয় পাশে সশস্ত্র সৈন্যের সতর্ক প্রহরা দেখা গেল। কালেক্টর গাড়ি থেকে নেমে পাসপোর্ট ও সরকারি অনুমতিপত্র গেটে জমা দিয়ে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি লাভ করেন। কর্মকর্তারা বলে দিলেন এখন নিজেদের গাড়ি রেখে তাদের গাড়ি ব্যবহার করতে হবে। দু’দেয়ালের মধ্যদিয়ে গাড়ি চলতে লাগলো। সুনিবিড় জঙ্গল আর বৃক্ষলতা ভিন্ন আরকিছু দেখা যায় না। এভাবে কিছুক্ষণ চলার পর সামনে একটি প্রাসাদ দেখা গেল। কালেক্টর সাহেব বললেন, ‘প্রাসাদে প্রবেশের পর থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত আপনি আমাকে কোন প্রশ্ন করবেন না। একেবারে চুপচাপ থাকবেন। আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে বাসায় ফিরে উত্তর দেব’। প্রাসাদের কিছু দূরে গাড়ি রেখে তারা পায়ে হেঁটে চললেন। বিপুল সংখ্যক কক্ষ সম্পন্ন প্রাসাদটি গগনচুম্বী ও অতিকায়। কালেক্টর সাহেব নবাব সাহেবকে একটি কক্ষের সামনে দাঁড় করালেন যেখানে আরবী পোশাক পরিহিত বিপুল ছাত্র মাটির বিছানায় বসে সবক নিচ্ছে। যেমন আমাদের দেশের মাদ্রাসা ছাত্ররা নেয়। ছাত্ররা আরবী ও ইংরেজী ভাষায় উস্তাদের নিকট প্রশ্ন করছে। আর উস্তাদ সুন্দর ও সাবলীল ভঙ্গিতে ঐ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। কালেক্টর সাহেব এভাবে নবাব সাহেবকে প্রতিটি কক্ষ এবং সেখানে যে সকল বিষয়ে শিক্ষা ও বাস্তব ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে তা ঘুরে ঘুরে দেখান। নবাব সাহেব এভাবে অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করেন যে- কোন কক্ষে কিরায়াত শিখানো হচ্ছে, কোথাও কুরআনুল কারীমের অর্থ ও তাফসীর শিখানো হচ্ছে, কোথাও বুখারী ও মুসলিম শরীফের সবক চলছে, কোথাও মাসয়ালা নিয়ে বিশদ আলোচনা চলছে, কোথাও হচ্ছে ইসলামী পরিভাষার উপর বিশেষ অনুশীলন, একটি কক্ষে দেখা গেলো ধর্মীয়তত্ব নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে রীতিমত আনুষ্ঠানিক বিতর্ক চলছে। নবাব সাহেব এসব দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেন এবং একজন ছাত্রের সাথে কথা বলতে চাইলেন। কিন্তু কালেক্টর সাহেব তাকে ইশারা করে চুপ থাকতে বললেন। বাসায় ফিরে নবাব সাহেব বললেন, এতবড় দ্বীনি মাদ্রাসা যেখানে দ্বীনের প্রতিটি বিষয় উন্নত পদ্ধতিতে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে এবং ইসলামের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা হচ্ছে, দেখে ভালো লেগেছে। কিন্তু এসব মুসলিম ছাত্রকে এই দূরবর্তী জায়গায় বন্দী করে কেন রাখা হয়েছে? কালেক্টর সাহেব উত্তর দিলেন, ‘এসব ছাত্ররা একজনও মুসলিম নয়। সব খৃস্টান মিশনারী’। নবাব সাহেব আরো আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এর কারণ কি?’ কালেক্টর সাহেব উত্তর দিলেন, ‘সুড়ঙ্গ পথে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠান থেকে লিখাপড়া শেষ করে ছাত্রদের মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়। (গোয়েন্দা আলিমদের বিশেষকরে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর কারণ হলো- মধ্যপ্রাচ্য হলো ইসলামের উৎস। তাই মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোন বিশেষজ্ঞ ইসলামের কোন কথা বললে তা সারা মুসলিম বিশ্বে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়)। সেখানে তারা নানান ছলে বলে কৌশলে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, ছোট বাচ্চাদের কুরআনের গৃহ শিক্ষক, মাদ্রাসার মুহাদ্দীস বা মুফতি হিসেবে ঢুকে পড়ে। যেহেতু তারা আরবী সাহিত্য ও ইসলামী বিষয়ে পারদর্শী তাই তাদের নিয়োগ পেতে অসুবিধা হয় না। অনেক সময় ধোঁকা দেয়ার জন্য তারা বলে, আমরা ইংরেজ এবং ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত আলিম। আমাদের অনেকে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা লাভ করা। নিজ দেশে দ্বীনি পরিবেশ, বড় মাদ্রাসা এবং পর্যাপ্ত মসজিদ না থাকায় আমরা এখানে এসেছি। শুধু দু’মুঠো ভাত ও মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই পেলেই চলবে। আমরা আল্লাহর দ্বীনের জন্য সবকিছু কোরবান করতে প্রস্তুত।’ এভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঢুকে গিয়ে তারা ষড়যন্ত্র শুরু করে দেয়। বিভিন্ন পদ্ধতিতে (বিশেষ করে ইসলামের জ্ঞানের মধ্যে ভুল ঢুকিয়ে) বিভেদ এবং অনৈক্য সৃষ্টির জন্য তারা অত্যন্ত তৎপর থাকে। একবার বিভেদের বীজ বপন করতে পারলে, ইন্ধন যুগিয়ে তারা মুসলমানদের বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত করে রক্তপাতও ঘটায়। সামান্য একটি ইসলামী বিষয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্টি করে দেয় দাঙ্গা হাঙ্গামার।
৩. ‘তথ্য সন্ত্রাসের কবলে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ’ পুস্তিকায় উল্লিখিত তথ্য
ইসলামী শিক্ষার কেন্দ্রগুলো ধ্বংসের দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করার জন্য তারা (ইহুদী-খৃস্টান চক্র) প্রথম ধাপে আরব বিশ্বের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। সেমতে সর্বপ্রথম ইহুদীরা মিশর ও ইসরাইলের মাঝে সমঝোতা করায়। অতঃপর উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে দৃঢ় ও সুসংহত করার লক্ষ্যে এক তরফা মিশরের নিকট দাবী করে যে, মিশরের শিক্ষা সিলেবাস থেকে এমন সব মৌলিক দ্বীনি আকিদা-বিশ্বাস ও নৈতিক শিক্ষাকে বাদ দিতে হবে যা উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্ক মজবুত ও সুসংহত হওয়ার পথে অন্তরায়। সাবেক ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী মানাহেম বেগান মিশর সফরকালে মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট আনওয়ার সাদাতকে বলেছিলেন, ইসরাইল ও মিশরের মধ্যকার সুসম্পর্ক কিভাবে মজবুত ও সুসংহত হবে, অথচ মিশরী নাগরিক কুরআনের এই আয়াত (মায়িদাঃ৭৮) পড়ছে যাতে ইসরাইলের নিন্দা করা হয়েছে। ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...
আনোয়ার সাদাত সাথে সাথে মিশরের শিক্ষা মন্ত্রীকে নির্দেশ দিলেন, সিলেবাসের দিকে দৃষ্টি দেয়া হোক এবং এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করলেন যার মধ্যে আমেরিকা, ইসরাইল ও মিশরের শিক্ষাবিদদের সদস্য করা হয়। তাদের কাজ দেয়া হয়. বর্তমান সিলেবাস পর্যালোচনা করে একটি সুপারিশ পেশ করা, যার আলোকে এমন একটি নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করা হবে যা হবে সেক্যুলার ও ধর্মহীন। মুসলিম বিশ্বের দীন ও ধর্মীয় শিক্ষাকে নির্মূল করার জন্য আমেরিকা মুসলিম বিশ্বকে সাহায্য দেয়ার ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করলো যে, যেসব মুসলিম ও আরব দেশ তাদের শিক্ষা সিলেবাস পরিবর্তন করে যুগের চাহিদার সাথে সমন্বয় করবে, তাদেরকেই কেবল সাহায্য দেয়া হবে। মিশর এ ক্ষেত্রে আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে ১৯৮১-২০০১ ইং সাল পর্যন্ত ১৮৫ মিলিয়ন ডলারের সাহায্য কেবল শিক্ষা উন্নয়নের জন্য দেয়া হয়।
তেলআবিবে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় যেখানে মিশরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা খলিল এবং জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ড. বুট্রোস ঘালি অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারের বিষয় ছিল ‘আরব ইসরাইল সম্পর্ক স্হিতিশীলতায় কুরআনের প্রভাব-প্রতিক্রিয়া’। উক্ত সেমিনারে ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মানাহেম বেগান পরিস্কার দাবি করেন, ‘ঐ সব মাদ্রাসা ও প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেয়া হোক যেখানে কুরআন পড়ানো হয়’।
(তথ্য সন্ত্রাসের কবলে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ। মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী, জেনারেল সেক্রেটারী, লন্ডনভিত্তিক ওয়ার্লড ইসলামিক ফোরাম, বাংলাদেশ ব্যুরো। রিমঝিম প্রকাশনী, বাংলা বাজার, ঢাকা। প্রকাশকাল নভেম্বর ২০০৯। পৃষ্ঠা নং ২৬-২৭।)
ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত এক ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি বই, বৃটেনের মাটির তলায় খৃস্টানদের গোপন মাদ্রাসা প্রতিবেদন এবং তথ্য সন্ত্রাসের কবলে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ পুস্তিকার সারসংক্ষেপ
ইসলামের শত্রুরা, ইসলামের মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকিয়ে মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য হাজার হাজার গোয়েন্দা হিজাজ (মক্কা-মদিনা), মিশর, ইরাক, ইস্তাম্বুল, ইরানসহ সকল মুসলিম দেশে পাঠায়।
ঐ গোয়েন্দাদের গোপন মাদ্রাসায় শিক্ষা দিয়ে অথবা আরবদেশে পাঠিয়ে মুসলিম বিশেষজ্ঞদের সান্নিধ্যে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করিয়ে, কুরআন, হাদীস ও শরীয়ায় পারদর্শী আলিম হিসেবে তৈরি করা হয়।
গোয়েন্দারা আলিম হিসেবে মুসলিম দেশ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল. ভাইস প্রিন্সিপাল, শিক্ষক, মুফাস্সীর, মুহাদ্দীস, মুফতি, মসজিদের খতিব, শিশুদের আরবী গৃহ শিক্ষক ইত্যাদি হিসেবে চাকরি নেয়।
ঐ গোয়েন্দা আলিমরা মুসলিম দেশ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশেষজ্ঞদের ধোঁকা দিয়ে কুরআন-হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করিয়ে বা নিজে বিশেষজ্ঞ সেজে ভুল ব্যাখ্যা করে, ভুল তথ্য তৈরি করে।
গোয়েন্দা আলিমরা মুসলমানদের সাথে মিলেমেশে মাদ্রাসা তৈরি করে।
অতঃপর তৈরি করা ভুল তথ্যগুলো বিভিন্নভাবে, বিশেষ করে ফিকাহ শাস্ত্র ও মাদ্রাসার সিলেবাসে ঢুকিয়ে মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ব্যবস্থা করে।
ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই তারা এ কাজ শুরু করে এবং ঐ কাজ এখনো চলছে।
ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি বই এবং পত্রিকার প্রতিবেদনটির অধিকাংশ বক্তব্য সত্য হওয়ার প্রমাণ
আল্লাহ ও রাসূল (সঃ) বাদে অন্য কারো বক্তব্য অন্ধভাবে মেনে নেয়া সকল মুসলিমের জন্য শিরক অথবা কুফরীর গুনাহ। কোন মুসলিম যদি কোন ব্যক্তির বক্তব্যকে এ কারণে মেনে নেয় যে ব্যক্তিটি অত্যন্ত জ্ঞানী তাই তার ভুল হতে পারে না, তবে এতে শিরকের গুনাহ হবে। কারণ, নির্ভুলতা শুধু আল্লাহর গুণ। আর কোন মুসলিম যদি কোন ব্যক্তির বক্তব্যকে এ কারণে মেনে নেয় যে ব্যক্তিটি অত্যন্ত জ্ঞানী পক্ষান্তরে তার ইসলামের কোন জ্ঞান নেই। তবে এতে তার আল্লাহর একটি বড় নিয়ামত বিবেককে অস্বীকার করার (কুফরীর) গুনাহ হবে। যার বিবেক জাগ্রত আছে সে ইসলামের অনেক তথ্য জানে।
তাই, ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি বই এবং পত্রিকার প্রতিবেদনটি পড়ার পর আমি তথায় উল্লিখিত বিস্ময়কর তথ্যগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করি। এটি করতে যেয়ে আমি যে তথ্যসমূহ পেয়েছি তা হলো-
তথ্য-১ in next.
No comments:
Post a Comment