Wednesday, 21 September 2011

মুসলিমরা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হওয়া


তথ্য-৪
t মুসলিমরা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে যাওয়া
গোয়েন্দার ডায়রি বই এবং পত্রিকার প্রতিবেদনটিতে দেখা যায় গোয়েন্দাদের একটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত করে ফেলা। আজ মুসলমানরা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত। অর্থাৎ গোয়েন্দারা তাদের এ প্রধান উদ্দেশ্য সাধনে দারুণভাবে সফল হয়েছে।
একটি জাতিকে বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত করার সবচেয়ে ফলপ্রসু উপায় হলো তাদের জ্ঞানের মধ্যে ভুল ঢুকিয়ে দেয়া। এটি করতে পারলে একদল একমত আর অন্য দল ভিন্নমত অনুসরণ করবে। ফলে জাতি বিভক্ত হয়ে যাবে। একটি জাতির মূল গ্রন্থ অবিকৃত থাকলে জ্ঞানের বিভিন্নতার কারণে তাদের বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক নয়। মুসলমানদের মূল গ্রন্থ কুরআনের একটি অক্ষরও বিকৃত হয়নি। তাই জ্ঞানের বিভিন্নতার কারণে মুসলমানদের বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হওয়া স্বাভাবিক নয়। তাই সহজেই বলা যায় যে, গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তথা ইসলামের বিশেষজ্ঞদের ধোঁকা দিয়ে বা নিজে বিশেষজ্ঞ সেজে ইসলামের জ্ঞানে ভুল ঢুকিয়ে দিয়ে গোয়েন্দারা মুসলমানদের আজ নানা উপদলে বিভক্ত করে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

তথ্য-৫
t ইসলামের প্রকৃত বিশেষজ্ঞদের রায় পরিবর্তন করে দেয়ার প্রমাণ
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর বহু রায়ের বিষয়ে তার ছাত্র বা ছাত্রের-ছাত্ররা দ্বিমত পোষণ করেছেন বা ভুল বলেছেন এবং ঐ স্থানে ছাত্র বা ছাত্রের-ছাত্রদের রায়গুলো সমাজে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সুধী পাঠক, এ ঘটনার কারণ নিম্নের দু’টির কোনটি হবে বলে আপনার মনে হয়?
১. ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর জ্ঞান-বুদ্ধি খুবই কম ছিল
২. ঐ ছাত্র বা ছাত্রের-ছাত্রদের মধ্যে কেউ কেউ গোয়েন্দাদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল বা নিজে গোয়েন্দা ছিল। যারা ইমামের সঠিক সিদ্ধান্ত ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করেছিল।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস ঐ ঘটনার কারণ দ্বিতীয়টি হবে বলে সকল পাঠকই উত্তর দিবেন।
ইমাম আবু হানিফা মাতৃভাষা আরবী ছিল। তিনি কুরআনের হাফিজ ছিলেন এবং অনেক হাদীস তাঁর মুখস্হ ছিল। তিনি তাবেয়ী ও অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তাই, ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর জ্ঞান-বুদ্ধি খুবই কম ছিল একথা বলা বড় ভুলই শুধু হবে না, বড় গুনাহও হবে। শত্রুরা নানাভাবে অত্যাচার করেও নিজেদের পক্ষে আনতে না পেরে, কারাগারের মধ্যে বিষ প্রয়াগে তাঁকে হত্যা করেছিল। ইমাম মালিক (রহঃ) এবং ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) এর উপরও অমানবিক অত্যাচার করা হয়েছিল। তাই নিশ্চিতভাবে বলা যায় সকল ইমামের রায়ের বেলায় এ অকল্পনীয় ঘটনা ঘটেছে। তাই এ তথ্যটিও ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি বই এবং পত্রিকার প্রতিবেদনটির মূল বিষয়বস্তুর (অমুসলিম গোয়েন্দা আলিমরা মুসলিম দেশ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশেষজ্ঞদের ধোঁকা দিয়ে কুরআন-হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করায় বা নিজে বিশেষজ্ঞ সেজে ভুল ব্যাখ্যা করে) সত্যতা প্রমাণ করে।

তথ্য-৬
t সিলেবাসে ভুল ঢুকানোর বিষয়ে সাধারণ জ্ঞানের প্রমাণ
কুরআন ও সুন্নাহর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ে প্রায় সকল সাধারণ শিক্ষিত মুসলমান যে উত্তর দেয় প্রায় সকল মাদ্রাসা শিক্ষিত ব্যক্তি তার বিপরীত উত্তর দেয়। যেমন-
ক. হাদীস কুরআনকে রহিত করতে পারে কি?
প্রায় সকল সাধারণ শিক্ষিত মুসলমান একবাক্যে এ প্রশ্নের উত্তর দিবেন, হাদীস কখনও কুরআনকে রহিত করতে পারে না। কিন্তু অধিকাংশ মাদ্রাসা শিক্ষিত ব্যক্তি বলবেন, হাদীস কুরআনকে রহিত করতে পারে। কারণ এটি তাদের সিলেবাসে আছে।
খ. ‘কুরআনের অনেক আয়াতের তিলাওয়াত চালু আছে কিন্তু হুকুম চালু নাই’ কথাটি কি সত্য?
প্রায় সকল সাধারণ শিক্ষিত মুসলমান একবাক্যে এ প্রশ্নের উত্তর দিবেন, এটি কখনো সত্য হতে পারে না। কারণ এটির অর্থ হলো মুসলমানদের অকল্পনীয় পরিমাণের সময়, কালি ও কাগজ নষ্ট হওয়া। কিন্তু অধিকাংশ মাদ্রাসা শিক্ষিত ব্যক্তি বলবেন কথাটি সত্য। কারণ এটি তাদের সিলেবাসে আছে।

যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, এ দু’টি বিষয়ের কারণ নিম্নের দু’টির কোনটি হবে?
১. কুরআন ও সুন্নাহর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় সাধারণ জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিপরীত
২. মাদ্রাসার সিলেবাসে ষড়যন্ত্র করে ভুল ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে

আমার দৃঢ় বিশ্বাস সকল বিবেকবান মানুষ বলবেন, দ্বিতীয়টিই এ দু’টি বিষয়ের কারণ। এ বিষয়ে সঠিক তথ্যটি হলো, আল-কুরআনে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান-বিজ্ঞানের চিরন্তনভাবে বাইরের কোন বক্তব্য নেই। এ তথ্যটি আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন সূরা আলে-ইমরানের ৭ নং আয়াতের মাধ্যমে। তাই, এ তথ্যও প্রমাণ করে যে, ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি বই এবং পত্রিকার প্রতিবেদনটির মূল বিষয়বস্তু সঠিক।

তথ্য-৭
t সিলেবাসে ভুল ঢুকানোর বিষয়ে অন্য প্রমাণ
কুরআন রিসার্চ ফাউন্ডেশন এ পর্যন্ত (জানুয়ারী, ২০১০) ৩০টি পুস্তিকার মাধ্যমে ৩০টি বিষয়ে তাদের গবেষণা প্রকাশ করেছে। ঐ ৩০টি বিষয় সবকটি ইসলামের মৌলিক বিষয়। ঐ বিষয়গুলোর প্রতিটিতে কুরআন, হাদীস এবং বাস্তবতার অনেক স্পষ্ট ও সহজবোধগম্য তথ্য আছে। কিন্তু ঐ প্রতিটি বিষয়ের সম্পূর্ণ বা আংশিক বিপরীত কথা সমস্ত মুসলিম বিশ্বে ব্যাপকভাবে চালু আছে। এ ঘটনার কারণ কোনটি হবে?
১. ইসলামের বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান বুদ্ধি খুবই কম ছিল
২. ষড়যন্ত্র করে ইসলামের মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে
সকল প্রকৃত মুসলমান অবশ্যই এ ঘটনার কারণ দ্বিতীয়টি বলবেন। এ তথ্যটিও ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি বই এবং পত্রিকার প্রতিবেদনটির মূল বিষয়বস্তু সঠিকত্বের একটি প্রমাণ। কুরআন রিসার্চ ফাউন্ডেশন কর্তৃক এ পর্যন্ত প্রকাশিত ৩০টি পুস্তিকার তালিকা এ বইয়ের শেষে উল্লিখিত আছে।
ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়রি বইয়ে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহাব (রঃ) কে খুব নিকৃষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ তথ্যটি সত্য নয় বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

ইসলামী মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকানো এবং তা স্থায়ী করার জন্য
গোয়েন্দারা বিভিন্ন স্তরে যে বিস্ময়কর কাজ করেছে
ইসলামী জ্ঞানে ভুল ঢুকানো এবং তা স্থায়ী করার জন্য অমুসলিম গোয়েন্দারা নয়টি স্তরে বিস্ময়কর কাজ করেছে। ঐ নয়টি স্তর হলো-
১. ইসলামী জ্ঞানের উৎসের তালিকায় ভুল ঢুকিয়ে দেয়া
২. কুরআনের জ্ঞান থেকে দূরে সরানোর ব্যবস্থা করা
৩. সুন্নাহর জ্ঞান থেকে দূরে সরানোর ব্যবস্থা করা
৪. কুরআনের চেয়ে হাদীসকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার ব্যবস্থা করা
৫. অভিনব পদ্ধতিতে ভুল তথ্য তৈরি করা
৬. ভুল তথ্যগুলো ফিকাহ শাস্ত্র ও মাদ্রাসার সিলেবাসে ঢুকিয়ে ব্যাপক প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ব্যবস্থা করা
৭. কুরআন ও হাদীস বাদ দিয়ে ফিকাহ শাস্ত্র থেকে ইসলামের জ্ঞান অর্জনকে উৎসাহিত করা
৮. ফিকাহ শাস্ত্রের সংস্কার বন্ধ করে ভুল তথ্যগুলোর সংস্কারের পথ বন্ধ করা
৯. ভুল তথ্যগুলো মুসলিমদের বিনা দ্বিধায় মেনে নেয়ার ব্যবস্থা করা

ডা। মতিয়ার রহমান এর মুল বই টা পেতে হলে দেখুন revivedislam.com
 ·  ·  · 7 hours 

No comments:

Post a Comment