এত বড় হুজুর কি ভুল করতে পারেন?
আমাদের দেশের মুসলিমদের বিভ্রান্ত থাকার একটা বড় কারন হল আমাদের এই অন্ধ বিশ্বাস যে আমাদেরহুজুর কি কম জানেন? যে যেই মত/দল/জামাত/বা পীর সাহেবের তরিকায় বিশ্বাসী হোক না কেন…সবাই অন্ধভাবে বিশ্বাস করে যে তাদের হুজুর বা তাদের দলের/মতের প্রবর্তক, বা তাদের প্রধান নেতা সাহেবই দ্বীন ইসলামের একমাত্র সবজান্তা অথবা তিনি ভুল করতে পারেন না। সংগত কারনেই, এই হুজুরদের অনুসরন করেই কেউ মাজারে সিজদা দিচ্ছে, কেউ পীরের নামের মুরগী জবাই করছে কেউ বা কবরে চাদর চড়াচ্ছেন। এছাড়াও পীরপুজা, চল্লিশা, কুলখানী, হাদীসের নামে জালিয়াতি, স্বামী বসের আমল, জন্মদিন/মিলাদের অনুষ্ঠান এবং সে অনুষ্ঠানে রাসুলুল্লাহর (সাঃ) জন্য খালি চেয়ার রাখা, পীরসাহেবের কাছ থেকে জান্নাতের সার্টিফিকেরট নেওয়া, পীরের থুথু খাওয়া থেকে শুরু করে সবই চলছে কোন না কোন হুজুরকে অনুসরন করে।
দ্বীনের সঠিক ঞ্জান না থাকায় তাদের কারও কাছে হুজুর বাছাই করার criteria হল বড় দাড়ি, কারও কাছে অন্ধ অনুসারির সংখ্যা, কারও কাছে কত বড় বা কয়তলা মসজিদের ইমাম/খতিব, অথবা কারও কাছে কে কত সুন্দর সুর করে ওয়াজ করতে পারল, অথবা কার নামে কত বেশি কেরামতির কল্পকাহিনী প্রচলিত আছে ইত্যাদী ইত্যাদী।
তাই তাদের কাছে কোরআন বা সহীহ হাদীসের সুস্পষ্ট বানী দিয়েও যদি বলেন …..ভাই তুমি যে কাজটি করছ, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এই কাজটি করতে নিষেধ করেছেন অথবা তিনি এই ভাবে করতে বলেছেন, এই দেখুন সহীহ হাদীস….। অধিকাংশ হ্মেত্রে দেখা যায়…তারা মানবেনা এবং বলবে…….আরে আমাদের এত বড়মসজিদের হুজুর/ইমাম/পীর সাহেব উনি কি কম জানেন উনাকে তো দেখলাম ওটা করতে আর আপনি কোথাথেকে কি দেখিয়ে বলছেন এটা করা যাবে না! না না করা যাবে। আরও শুনতে পারেন ‘তোমরা আজকাল সবনতুন নতুন হাদীস বের কর। এই যে এত বড় বড় হুজুররা/মাওলানারা এতদিন ধরে এগুলো করে আসলেনএগুলো কি ভুল ছিল?
এই মানুষগুলো যদি শুধু অশিহ্মিত বা মুর্খ শ্রেনীর হত তাও একটা কথা ছিল। আজকাল ইংরেজী-বাংলায় শিহ্মিত ব্যাক্তিদের ও এই একই অবস্হা। সারা জীবন জাফর/হুমায়ন/মাসুদ রানা/সমরেশের কোর্স কমপ্লিট করে অথবা Medical/Engineering/MBA/CA/Hons/Masters…….etc. এর কঠিন কঠিন বিষয়ের কঠিন কঠিন ঞ্জান আহরন করে অথবা GTV, Star plus বা চ্যনেল আই এর পরকিয়ার সকল পাঠ সম্পন্ন করে অথবা ৫দিন ধরে চলে ড্র হওয়া খেলার সব পরিসংখ্যান মুখস্ত করে অথবা সালমান শাহরুখ বা বন্ডের সকল কিস্তি মুখস্ত করে ……….নিজের ধর্মটাকে পাশের হুজুরের কাছে লিজ দিয়ে রাখবে। ক্রিকেটে সর্বোচ্চ century-এর মালিকের নাম ঠিকই বলতে পারবে, কিন্তু সর্বোচ্চ হাদীস কে বর্ননা করেছেন, তা বলতে পারবে না। দশজন নায়ক-নায়িকা/গায়ক-গায়িকার নাম ঠিকই বলতে পারবে কিন্তু দশজন সাহাবীর নাম হয়ত বলতে পারবে না। কে তিনবার ফিফা বর্ষসেরা হয়েছে ঠিকই বলতে পারবে, কিন্তু কাকে জান্নাতের সবগুলো দরজা দিয়ে ডাকা হবে বলতে পারবে না। রবীন্দ্রনাথ/নজরুল/হুমায়নের ৬টি বইয়ের নাম হয়ত ঠিকই বলতে পারবে কিন্তু ৬টি সহীহ হাদীস গ্রন্থের নামও হয়ত বলতে পারবে না।…… আসলে হিদায়েত পাওয়ার কি কোন সত প্রচেষ্টা আমাদের আছে? না থাকলে আমরা হিদায়েত পাব কিভাবে?
প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজে কোরআনের যে সুরাটি(সুরা ফাতিহা) প্রতি রাকাতে পড়া বাধ্যতামুলক, তাতে মুলতআমরা বারবার আল্লাহর কাছে হিদায়েত প্রর্থনা করি। নামাজ তো শুধু মুসলিমদেরই পড়ার কথা। তাহলেআল্লাহপাক মুসলিমদেরকে প্রতিদিন ১৭ বার(১৭ রাকাত ফরজ নামাজ) শুধু হিদায়েত প্রার্থনা বাধ্যতামুলক করেদিলেন কেন?
আমরা কি একবার চিন্তা করে দেখব না আল্লাহ পাক হিদায়েত লাভের ব্যাপরে কুরআনে কি বলেছেন: ‘যারাআমার পথে সর্বোত্কৃষ্ট ভাবে চেষ্টা করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহসত্কর্মপরায়ণদের্ সাথে আছেন। (Al-`Ankabūt:69)
****এবার কয়েকটি উদাহরনের মাধ্যমে হুজুরবাদীদের সংশয় নিরশনের চেষ্টা করা যাক।****
প্রথম উদাহরন: সাহাবী (রাঃ)গনের শিহ্মা
একটি সহীহ হাদীস লহ্ম করি ইবনু শিহাব (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, সালেম ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) তাকে (ইবনে শিহাব)বলেছেন, তিনি [সালেম ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)] শামের একজন লোকের নিকট থেকে শুনেছেন, তিনি আব্দুল্লাহইবনু ওমর (রাঃ)-কে হজ্জে তামাত্তু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বললেন, তা হালাল। তখনসিরীয় লোকটি বললেন, তোমার পিতা (ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব) তা নিষেধ করেছেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর(রাঃ) বললেন, যে কাজ আমার পিতা নিষেধ করেছেন সে কাজ যদি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) পালন করেন, তাহ’লেরাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নির্দেশ অনুসরণযোগ্য, না আমার বাবার নির্দেশ অনুসরণযোগ্য? লোকটি বললেন, বরংরাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নির্দেশ অনুসরণযোগ্য। তখন আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হজ্জেতামাত্তু আদায় করেছেন। (তিরমিযী, হা/৮২৪, ‘হজ্জ’ অধ্যায়, ‘হজ্জে তামাত্তু সম্পর্কে যা এসেছে’ অনুচ্ছেদ, সনদ ছহীহ।)
কি পাওয়া গেল হাদীসটি থেকে: ১. রাসুলুল্লাহ (সাঃ)এর সব হাদীস ওমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) এর মত জান্নাতের সার্টিফিকেট প্রাপ্ত সাহাবীগনেরও জানা ছিল না। (এবার আপনার হুজুরের/পীরের/ইমামের/মুরুব্বীর অবস্হাটা একটু চিন্তা করুন) ২. রাসুলুল্লাহ (সাঃ) থেকে কোন বক্তব্য সঠিক ভাবে পাওয়া গেলে(অর্থাত হাদীস সহীহ হলে) অন্য কারও বক্তব্য গ্রহনযোগ্য নয়। এমনকি তিনি উমার (রাঃ)এর মত সাহাবী হলেও। আর আপনার হুজুরের/পীরের/ইমামের/মুরুব্বীর কথা তো বলার অপেহ্মাই রাখে না। ৩. একথা বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোন সুযোগ নেই যে, এত বড় সাহাবী/হুজুর/ইমামসাহেব/পীরসাহেব কি ভুল জানতেন? ৪. আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্যের চেয়ে কারও আনুগত্যই প্রধান্য পাবে না, সে পিতা হউক আর খলিফা হউক আর মুরুব্বী হউক। ৫. রাসুলুল্লাহ (সাঃ)এর কোন বক্তব্য আমার অনুসরনীয় কোন ব্যাক্তির সাথে না মিললে, তালগাছটা নিজের করার জন্য একথা বলা মোটেও উচিত নয় যে, ‘রাসুল (সাঃ) কি বোঝাতে চেয়েছেন তুমি আসলে বোঝনি’, অথবা রাসুল (সাঃ) থেকে প্রমানিত সুস্পষ্ট দলিল ছাড়া একথাও বলা উচিত নয় যে, এ হুকুমটি মানসুখ (রহিত) হয়ে গেছে। সব সময় এ আয়াতটি মনে রাখব “মুমিনদের বক্তব্য কেবল এ কথাই যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্যে আল্লাহ ও তাঁররসূলের দিকে তাদেরকে আহবান করা হয়, তখন তারা বলেঃ আমরা শুনলাম ও আদেশ মান্য করলাম। তারাইসফলকাম”(আন নুর:৫১)।
আরও মনে রাখব আল্লাহর স্পষ্ট হুকুম থাকা সত্বেও তার উপর কিয়াসটা ইবলিশই করেছিল। এবং এই ইবলিসই আদম (আঃ) কে কিয়াস করে ভুল বুঝিয়েছিল যে, “আল্লাহ তোমাকে এই ফল খেতে এই কারনে নিষেধ করেছেন যে………..”।
একই ধরনের আরেকটি হাদীস লহ্ম করি: ইমরান ইবনু হুছাইন (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)বলেছেন, ‘লজ্জাশীলতা কল্যাণ বৈ কিছুই আনয়ন করে না’। তখন বুশায়র ইবনু কা’ব (রাঃ) বললেন, হিকমতেরপুস্তকে লিখা আছে যে, কোন কোন লজ্জাশীলতা ধৈর্যশীলতা বয়ে আনে। আর কোন কোন লজ্জাশীলতা এনেদেয় শান্তি ও সুখ। তখন ইমরান (রাঃ) বললেন, আমি তোমার কাছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে (হাদীছ) বর্ণনা করছি।আর তুমি কিনা (তদস্থলে) আমাকে তোমার পুস্তিকা থেকে বর্ণনা করছ? (বুখারী, হা/৬১১৭ ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়, ‘লজ্জাশীলতা’ অনুচ্ছেদ।)
দ্বিতীয় উদাহরন: পৃথিবীর সব ধর্মের লোকেরাই যদি এভাবে চিন্তা করে তাহলে কি তারা কোনদিনহিদায়েত পাবে? যেমন খ্রিস্টানরা যদি চিন্তা করে আইনষ্টাইন/নিউটন এত বড় বিঞ্জানী, তিনি কি ভুল করতে পারেন? আবার যদি নাস্তিকগন চিন্তা করেন হকিন্স/ডারউইন কত বড় গবেষক ছিলেন বা হিন্দুরাও যদি চিন্তা করে রবীন্দ্রনাথ এত বড় ঞ্জানী ব্যাক্তি ছিলেন তিনি কি ভুল করতে পারেন? তাহলে কি তারা কোনদিন হিদায়েত পাবে? এমনকি যদি রাফেজী/শিয়ারা মনে করে আয়াতুল্লাহ আল খোমেনী কি ভুল করতে পারে? যিনি এত বড় নেতা, অথবা যিনি আমেরিকার বিরুদ্ধে বলিষ্ট কন্ঠস্বর, তিনি কি ভুল করতে পারেন? তাহলে তারা তো খোমেনীর অন্ধ অনুসরন করে রাসুলুল্লাহর (সাঃ) সাহাবীগনকে নির্লজ্জ্ব ভাবে গালি দিবে (নাউযুবিল্লাহ)।
তৃতীয় উদাহরন: হুজুরদের বৈপরিত্য
উপমহাদেশের কয়েকজন বিখ্যাত হুজুরদের নাম যদি উল্লেখ করি
ক. আহম্মদ রেজা খান বেরেলভী (কবর/মাজার/পীরপন্থীদের আদর্শ) (বিস্তারিত এখানে পাবেন…) খ. ইবনে আরাবী (সুফীবাদের বড় হুজুর) (বিস্তারিত এখানে পাবেন…) গ. সায়্যিদ আবুল আলা মাওদুদী (জামাতী ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা) ঘ. গোলাম মুহাম্মদ কাদীয়ানি (কাদিয়ানী গোষ্ঠির প্রতিষ্ঠাতা) (বিস্তারিত এখানে পাবেন…) ঙ. আশরাফ আলী থানভী (তাবলীগ/দেওবন্দীদের বড় হুজুর) (বিস্তারিত এখানে পাবেন…)
প্রথমেই বলে নেই কে ভাল আর কে খারাপ এখানে একথা বলা উদ্দেশ্য নয়। তবে এই পাঁচজনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ঠ আছে। ইংরেজ শাসনআমলে উপমহাদেশের ইসলাম যে কয়েকটি প্রধান ধারায় বিভক্ত হয়েছিল এই পাঁচজন ছিলেন সেই ধারাগুলির কোন না কোনটার বিশেষ ব্যাক্তিত্য। তাদের সবারই বিশাল অনুসারী গোষ্ঠি রয়েছে। এবং এই পাঁচ গোষ্ঠিকেই উপমহাদেশে হাতের সবচেয়ে কাছে পাবেন। তবে সবচেয়ে আফসোসের ব্যাপার এটাই যে, এই পাঁচজনের বিরুদ্ধেই এক বা একাধিক গোষ্ঠির (এই পাঁচটি গোষ্ঠির মধ্য থেকে)মুশরেকী/কুফরী ফতোয়া দেয়া আছে। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যদি কেউতার ভাইকে কাফির ঘোষণা করে করে, তাহলে এটি তাদের দুইজনের মধ্যে কোন একজনের উপর অর্পিতহবে’। আরেকটি বর্ণনা অনুসারে, ‘যাকে কাফির বলা হচ্ছে সেটিই সঠিক নচেত তা যে বলেছে তার উপরইঅর্পিত হবে’। (সহীহ আল বুখারী-৬১০৪; এবং মুসলিম-৬০)
এখন বলেন আপনি কাকে ছেড়ে কাকে গ্রহন করবেন? না কি হাতের কাছে যেটা পাবেন সেদিকেঝাপ দিবেন! না কি যার অনুসারির সংখ্যা বেশী সেদিকে যাবেন? আপনার হুজুর সব জানে theory আসলে এখানে অচল। আপনাকে এখন এমন একটি মাপকাঠি নির্বাচন করতে হবে যা universal। এবং তা হল ওহী তথা কুরআন-সুন্নাহ। তাই আমরা আমাদের আনুগত্যটাকে চিরজীবনের জন্য কাউকে লিজ দিয়ে দিব না, ইনশাআল্লাহ। তার মানে এই নয় যে, আলেমদের কাছে যাব না। যত বেশী সম্ভব মাপাকাঠির (কুরআন-সুন্নাহ) ঞ্জান আহরন করব এবং আলেমদের এভাবে জিঞ্জাসা করব ইনশাআল্লাহ, “এ কাজটি আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কিভাবে করতেন? আলেম সাহেব কিভাবে করছেন তা সবসময় আমার বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত নয়। আরও জানতে চেষ্টা করব কোনটি শরীয়তের দলিল হওয়ার যোগ্য কোনটি নয় (ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পোষ্টে আলোচনা করা হবে।তবে প্রাথমিক ধারনা এখানে পাবেন…)। আরবী ভাষা শিহ্মা করলেও অনেক বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
সবশেষে একটি ঘটনা বলে আজকের কিস্তি শেষ করছি ‘প্রায় ৭ বছর আগের ঘটনা। আমি তখন মিলাদ পাঠের একান্তু অনুরাগী এবং মিলাদ পাঠের পর আমার মনে হত আমার ধর্মীয় আনুগত্য অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু বিভিন্ন মহল থেকে মিলাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠায় আমি বেশ বিরক্ত ছিলাম। তাই একদিন মিরপুর-১০ নাম্বার বড় মসজিদে মিলাদ শেষে যখন মিষ্টান্ন বিতরন চলছে তখন, ইমাম সাহেব কে প্রশ্ন করলাম, আচ্ছা হুজুর বলেন তোআজকাল যে মিলাদ নিয়ে এত কথাবার্তা হচ্ছে, এই মিলাদ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) পড়তে বলেছেন না? তিনি বললেননা। আমি আবার বললাম, তাহলে সাহাবী (রাঃ) নিশ্চই মিলাদ পড়েছেন? তিনি বেশ বিব্রত হয়ে বললেন না।আমি বললাম তাহলে নিশ্চয় কুরআন বা হাদীসে কোথাও এসেছে? তিনি এবার বিরক্ত হয়ে বললেন না নেই,তবে বিভিন্ন কিতাবে এসেছে। সদ্য মিলাদ পাঠকরা বড় মসজিদের ইমাম সাহেবের এই উত্তর শুনে বুঝলাম ডাল মে কুচ কালা হ্যায়। তারপর নিজেই সিদ্ধান্ত নিলাম, যে কাজ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) করেননি বা করতেবলেননি, এমনকি তার সাহাবীগনও করেনি সেই কাজ করে আমার কাজ নেই। আমি তাদের থেকেওবড় বুজুর্গ হতে চাই না‘।
আল্লাহ আমাদেরকে সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর প্রতিষ্ঠিত করে দিন। আমীন ।
No comments:
Post a Comment