-: গন্ডমালা ঃ-
মধ্যযুগে এই ধাতুদোষকে বলা হইত রাজদোষ। আজ ও আমরা তাহা ভুলিতে না পারিয়া রাজযক্ষা বলিয়া থাকি।রাজদোষ বলিবার পশ্চাতে কারণ যে নাই তাহা নহে। সেই যুগের মানুষেরা বিশ্বাস করিত যে, রাজদোষযুক্ত রোগীকে দেশের রাজা স্বহস্তে স্পর্শ করিলে সংশ্লিষ্ট রোগী রোগমুক্ত হইয়া যায়। অধুনা বাংলাভাষায় আমরা গণ্ডমালা কহিয়া থাকি।ল্যাটিন ও ইংরেজী ভাষায় ইহা অনেক নামে অভিহিত হইয়া থাকে, যেমন Lymphatic,Leucophlegmatic,Phle gmatic,Scrofula and Strumous. ইত্যাদি।বাস্তবে ইহা হইল ক্ষয়দোষ,যে কারণে রোগীমধ্যে ক্ষয়রোগ (Tuberculosis) উপস্থিত হইয়া থাকে। এই দোষে আক্রান্ত শিশু,যুবক কিংবা যুবতিগন জীবনের ঊষালগ্নে দোষের কারণে নানারোগ প্রদর্শন করিয়া থাকেন। আমরা ও দোষের মূলোৎপাটনে সচেষ্ট না হইয়া দোষের ফলের প্রতি আকৃষ্ট হইয়া নানারকম কুচিকিৎসার দ্বারা ফল নিবৃত করিতে সচেষ্ট হই। ডাক্তারবাবুদের অকৃত্রিম প্রচেষ্টায় নানারকম ইঞ্জেকশন ও ট্যাব্লেট দ্বারা রোগমুক্তির ব্যবস্থা করেন। উভয়পক্ষ আত্মতুষ্টিতে ভরপুর আনন্দিত হই। বাস্তবিক পক্ষে ইহাই ছিল টিউবারক্লুসিস এর পূর্বলক্ষণ। এখন ও পূর্ণবিকাশ লাভ করেনি। ইহাই ছিল তার দৈহিক ধাতুদোষের বিজ্ঞপ্তি। অজ্ঞতার কারণে সে সাহায্য রোগীকে করিতে পারিনাই বলিয়া দেহমধ্যে সেই দোষ নিজ শাখা প্রশাখা বিস্তার করিতেই থাকিবে ও একদিন প্রবল পরাক্রমে আক্রমন করিয়া বসিবে। কোন একদিনের পূর্ব কিংবা দক্ষিণা বাতাস সহ সামান্য বৃষ্টির কারণে সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হইয়া ডাক্তারবাবুদের স্মরনাপন্ন হইব কিন্তু ইতিপূর্বের নিয়ম কিংবা ঔষধে আর রোগ সারিবে না। এবারে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা পরিশেষে, Tuberculosis.Tubberclosis এর পূর্বাবস্থা পর্যন্ত শারীর বিধানে নানারুপ সমস্যা দেখা দেয়। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষায় লসিকার নানান সমস্যা ধরা পড়ে। বিশেষত গলার লসিকা গ্রন্থিগুলিতে ক্ষয় হইতে দেখা যায়। লসিকার আর ও নানারুপ সমস্যার কারণে একজিমা জাতীয় উদ্ভেদ,নালীঘা,ক্ষত ইতাদি দেখা যায়। গলার গ্রন্থিগুলির স্ফীতি,শ্বাস কাশযুক্ত প্রায় স্থায়ী অবস্থা প্রাপ্ত হয়।গ্রন্থি,হাড়,চর্ম ও সন্ধিগুলিতে ক্ষয় যেন সাধারণ ব্যাপার। আধুনিককালে এইরকম ধাতুতে আক্রান্ত মানুষ সাধারণতঃ দু প্রকারের দেখিতে পাওয়া যায়।
(১) শ্লেষ্মাপ্রধান ধাতু,যাহারা দেখিতে বেশ মোটাসোটা,থলথলে দেহ,মেদে পরিপূর্ণ,রং ফর্সা কিন্তু উজ্জল নয় বরং মেটে ,কেশগুলি মোটা ও খসখসে,ঠোঁট মোটা,পেট ঊল্টানো বাটীর মত অথচ দূর্বল ও স্পর্শকাতর। অল্পেই ঠাণ্ডা লাগে, সামান্য একটু বায়ু প্রবাহে কিংবা পরিবর্তনে সর্দিকাশি ইত্যাদির উপদ্রব উপস্থিত হয়।
(২)রং ফর্সা, চর্মে রং বেরংয়ের দাগ, রক্তপ্রধান ধাতু,দেহের রং বিবর্ণতা থেকে পাটল বর্ণে পরিবর্তন যেন আযখন তখন। সুন্দর মশৃ্ন রেশমের মত কেশ ও চোখ প্রায় নীল দেখিতে পাওয়া যায়।হোমিওপ্যাথির ভাষায় এই সমস্ত ব্যক্তিবর্গ পুরাতন বা চিররোগের অধীন।তরুন রোগ নিবারন পদ্ধতিতে সাময়িক উচ্ছ্বাস কিছুটা উপশম হইলে ও স্থায়ী ফল দর্শায় না। বাস্তবে ইঁহারা সোরা ও সিফিলিস দোষের সংমিশ্রনে আক্রান্ত।আধুনিক কালে হোমিওপ্যাথি দর্শনে ইহাকে সিউডো-সোরা নামে অভিহিত করা হইয়া থাকে।জীবনিশক্তি নিঃশেষ কিংবা অপচয়ের পূর্বে অর্থাৎ জীবনের প্রারম্ভে সমলক্ষণসুত্রে যোগ্য চিকিৎসকের সহায়তায় উহা নিবারণের আশা করিতে পারা যায় এবং ভবিষ্যত জীবন সুস্থ-সুন্দর জীবন যাপনে সহায়ক হইতে পারে।
মধ্যযুগে এই ধাতুদোষকে বলা হইত রাজদোষ। আজ ও আমরা তাহা ভুলিতে না পারিয়া রাজযক্ষা বলিয়া থাকি।রাজদোষ বলিবার পশ্চাতে কারণ যে নাই তাহা নহে। সেই যুগের মানুষেরা বিশ্বাস করিত যে, রাজদোষযুক্ত রোগীকে দেশের রাজা স্বহস্তে স্পর্শ করিলে সংশ্লিষ্ট রোগী রোগমুক্ত হইয়া যায়। অধুনা বাংলাভাষায় আমরা গণ্ডমালা কহিয়া থাকি।ল্যাটিন ও ইংরেজী ভাষায় ইহা অনেক নামে অভিহিত হইয়া থাকে, যেমন Lymphatic,Leucophlegmatic,Phle
(১) শ্লেষ্মাপ্রধান ধাতু,যাহারা দেখিতে বেশ মোটাসোটা,থলথলে দেহ,মেদে পরিপূর্ণ,রং ফর্সা কিন্তু উজ্জল নয় বরং মেটে ,কেশগুলি মোটা ও খসখসে,ঠোঁট মোটা,পেট ঊল্টানো বাটীর মত অথচ দূর্বল ও স্পর্শকাতর। অল্পেই ঠাণ্ডা লাগে, সামান্য একটু বায়ু প্রবাহে কিংবা পরিবর্তনে সর্দিকাশি ইত্যাদির উপদ্রব উপস্থিত হয়।
(২)রং ফর্সা, চর্মে রং বেরংয়ের দাগ, রক্তপ্রধান ধাতু,দেহের রং বিবর্ণতা থেকে পাটল বর্ণে পরিবর্তন যেন আযখন তখন। সুন্দর মশৃ্ন রেশমের মত কেশ ও চোখ প্রায় নীল দেখিতে পাওয়া যায়।হোমিওপ্যাথির ভাষায় এই সমস্ত ব্যক্তিবর্গ পুরাতন বা চিররোগের অধীন।তরুন রোগ নিবারন পদ্ধতিতে সাময়িক উচ্ছ্বাস কিছুটা উপশম হইলে ও স্থায়ী ফল দর্শায় না। বাস্তবে ইঁহারা সোরা ও সিফিলিস দোষের সংমিশ্রনে আক্রান্ত।আধুনিক কালে হোমিওপ্যাথি দর্শনে ইহাকে সিউডো-সোরা নামে অভিহিত করা হইয়া থাকে।জীবনিশক্তি নিঃশেষ কিংবা অপচয়ের পূর্বে অর্থাৎ জীবনের প্রারম্ভে সমলক্ষণসুত্রে যোগ্য চিকিৎসকের সহায়তায় উহা নিবারণের আশা করিতে পারা যায় এবং ভবিষ্যত জীবন সুস্থ-সুন্দর জীবন যাপনে সহায়ক হইতে পারে।
No comments:
Post a Comment