Tuesday, 16 October 2012

ধাতু বর্নণ।

Morphology বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে প্রাচিন কালে ৪ ভাগে মানুষের এই ধাতু ভাগ করা হয়েছিল। আসলে এই ব্যাপারটাকে ধাতু না বলে ধাত বা প্রবণতা বললেই ভাল হয়। যা হোক প্রকারগুলি এরকম (1) Sanguin (2) Bilious. (3) Phlegmatic (4) Nervous. এই বিভাজন ছিল মনিষী Galien এর।
আর অন্য একজন নাম Sigaud তিনি ও চার ভাগ বলেন তবে বিভাগ গুলি অন্যরকম যেমন (1) Respiratory (2) Digestive (3) Muscular (4) Cerebral.
মধ্যযুগে এবং পরবর্তিতে আরো অনেক ভাগ যোগ হয়েছে সেগুলির প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত কম বলে আলোচনা নিষ্প্রয়োজন ভেবে উল্লিখিত হলনা।
পরিশেষে Dr Grauvogl যা বর্নণা করলেন তা আজ ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকগণ অনুসরন করে থাকেন, যদি ও এই বিভাগ গুলিকে গঠনগত ধাতু না বলে ধাত বলাই ভাল।যেমনভাবে আমরা হোমিওপ্যাথির জনক হ্যানিম্যানের Chronic disease এর ক্ষেত্রে মায়াজম বা দোষ বলে উল্লেখ করে থাকি। একটা কথা না বললেই নয় সেটি এই যে দোষ যে কোন দেহে অবস্থান গ্রহন করতে পারে পক্ষান্তরে একদেহের গঠনগত সুফল বা কুফল অন্যদেহে নিতে পারেনা। 
Dr Grauvogl বলেছেন তিন প্রকার (1) Oxygenoid (2) Hydrogenoid (3) Carbo-nitrogenoid.

আলোচনা।
কতকগুলি সাধারণ লক্ষণ একত্র করিয়া এক একটি রোগের নামকরন হয় বা হইয়া থাকে।হোমিওপ্যাথিতে এই নাম শুধুমাত্র নামই। ঔষধ নির্বাচন কিংবা চিকিৎসাক্ষেত্রে ইহার কোন কার্যকারিতা নাই।ইতিপূর্বেই বলিয়াছি কতকগুলি সাধারণ লক্ষণ একত্র করিয়া একটি রোগের নামকরন হয়, যথা, দেহে তাপ বাড়িয়াছে,শরীরে ভারবোধ,আলস্য,অরুচি,মাথাব্যথা, মুখচোখে জ্বালাবোধ ইত্যাদি মিলিয়া জ্বর। আবার তরল বর্ণহীন ভেদ ও বমন,প্রচুর পিপাসা,দ্রত বলক্ষয় ইত্যাদি লইয়া নাম দেওয়া হইবে কলেরা।অধুনা রোগী হইতে আরম্ভ করিয়া রোগীর অভিভাবক সকল এলোপ্যাথি চিকিৎসার বদৌলতে আপনার বহুপূর্বে ডায়াগনিস করিয়া রোগীর কথা জিজ্ঞাসা
মাত্রই জ্বর নয়তো বা ডায়ারিয়া বলিয়া দিবে।এক্ষনে জিজ্ঞাস্য, কি ঔষধ আপনি দিতে পারেন। সুতরাং নামের মূল্য আপনার কাছে কিছু নাই।কেবল ভাষার সুবিধার জন্য নাম। মূল্যবান লক্ষণ প্রাপ্ত হইলে আপনার নিকট কলেরা বা ডায়ারিয়ার ঔষধ ও জ্বরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
হোমিওপ্যাথ হইয়া যে ব্যক্তি রোগ বা রোগের নাম ধরিয়া ঔষধ দিয়া থাকেন, তিনি হোমিওপ্যাথ নহেন,কেবল হোমিওপ্যাথিক ঔষধের বাক্স ও বহি টেবিলে রাখিবার জন্য তাঁহাকে একটি নাম দেওয়া হয়,-----হোমিওপ্যাথ, এই পর্যন্তই।তাঁহার দ্বারা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কার্য হইবার উপায় নাই। 
বলিতে পারেন এইভাবে তো অনেক চিকিৎসই চিকিৎসা কার্য চালাইয়া আসিতেছেন। উত্তর যথাযোগ্য না হইলে ও এতটুকু বলা যায় যে "ঝড়ে বক মরে,আর লোকে ফকিরের কেরামতি ভাবে" । ওরাই তো যুগে যুগে হোমিওপ্যাথি নিধন যজ্ঞে ঘৃতাহুতি দিয়ে আসছে।
 সমালোচনাঃ--
অনেক হোমিওপ্যাথি অবলম্বনকারী চিকিৎসক বন্ধুগণ আক্ষেপ করিয়া বলেন যে চিকিৎসা জগতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রমান্ময়ে ক্রমন্নতি ঘটিয়াই চলিয়াছে অথচ হোমিওপ্যাথি হ্যানিম্যানের অর্গানন অভ মেডিসিনের কয়েকটি কথা ও নীতির মাঝে আটকাইয়া রহিল।
আমি বিণীতভাবে বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করি এই বিশ্বে সত্য বলিয়া যাহা কিছু আছে তাহার কি ক্রমোন্নতি বলিয়া কিছু আছে? আমি যাহা জানি তাহা হইল সত্য চিরন্তন,দেশ,কাল কিংবা পাত্রের গন্ডিতে ইহাকে আবদ্ধ করা যাইতে পারেনা,পরিবর্তন পরিবর্ধনের কামনা তো নিছক অজ্ঞতা।
যদি হোমিওপ্যাথিক তত্বের অভ্যন্তরে প্রকৃ্ত প্রবেশলাভ ঘটিয়া থাকে,তবে বুঝিতে বাকি থাকেনা যে,হোমিওপ্যাথিক তত্বের আদৌ পরিবর্তন অসম্ভব।
কারণ হিসাবে এতটুকু উদাহরণ দিতে পারা যায় যে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি যাহা সত্য। পৃথিবী সৃষ্টির আদিকাল থেকে এই শক্তি আছে ইহা ও সত্য। আধুনিক কালে এই প্রকৃ্তির উপর মনুষ্য সমাজের যথেচ্ছাচার,নিত্য নৈ্মিত্তিক নতুন নতুন আবিস্কার,পরিবেশ দূষণ ইত্যাদিরকারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার যেইরুপ পরিবর্তন ঘটিয়াছে নিশ্চয় মাধ্যাকর্ষণ শক্তিতে ও পরিবর্তন ঘটিয়া থাকিবে।পরিবেশের কারনে দেশ, কাল ভেদে যদি কখন ও স্বাভাবিক নিয়মের পরিবর্তন সম্ভব হয়,তবে ইহার ও হইবে। এইরুপ চিন্তাধারা একমাত্র জ্ঞানহীন ব্যাক্তিরই থাকিতে পারে অন্যদের নয়।
পরিশেষে দুইটি বিষয়ের নিবেদন করিতে অভিলাষ। (১) যেই সমস্ত বিষয় ও বস্তু এখন ও সত্যে পৌছায় নাই। (২) যেই সমস্ত বিষয় ও পদ্ধতি স্বাভাবিক বা প্রাকৃ্তিক নিয়মের অধীন নয় । সেই সমস্ত ক্ষেত্রেই ক্রমোন্নতি হওয়া এবং ক্রমান্ময়ে সত্যে উপনীত হওয়া আবশ্যক, এবং সেই মর্মে নিরলস সাধনা ও কার্য করিয়া যাওয়া উচিত।
কিন্তু যে বিষয় সত্য, তাহার আবার ক্রমোন্নতি কি হইবে??
জীবনিশক্তিঃঃঃঃঃ
জীবনী শক্তি বা Vital Force সম্পর্কে প্রাবীণ চিকিৎসক ডাঃ আশরাফ আলী মোল্লার মন্তব্যঃ
হোমিওপ্যাথি শাস্ত্র বুঝিতে হইলে জীবনীশক্তি বিষয়টি উত্তমরুপে না বুঝিলে অথবা স্পষ্ট ধারণা না থাকিলে হোমিওপ্যাথির মূলতত্বটি হৃদয়ঙ্গম করিবার পথে যে অন্তরায় সৃষ্টি হয় তাহা মূলতঃ বিভ্রান্তির পথেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও সত্যনুসন্ধানিকে চালিত করিয়া থাকে। বিধায়, আমার জ্ঞান ও সামর্থ্যানুযায়ী একটি উদাহরণ মাত্র উল্লেখ করিব।
অনেক সময় দেহাংশে কাঁটা ফোটে,কাটিয়া যায় বা আঘাত প্রাপ্ত হয়। অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে দেহের যে অংশে উল্লিখিত ঘটনা ঘটে সেই অংশটি কালক্ষেপ না করিয়া জ্বালা কিংবা বেদনার্ত হইয়া পড়ে।কারণ, প্রাণ কহিবেন নাকি চৈতন্য কহিবেন ঐ অবাঞ্চিত ঘটনা কিংবা কাঁটার মত একটু ক্ষুদ্র বস্তুকেও স্বীয় অঙ্গে স্থান করিয়া দিতে সন্মত নয় । প্রতিনিয়ত ঐ শক্তি কাঁটার ন্যায় ক্ষুদ্র বস্তুটি দেহের অংশ না হওয়ায় দেহমধ্যে উহার অবস্থান সহ্য ও স্বীকার করিবেনা বলিয়াই ব্যাথা প্রভৃতির দ্বারা আবেদন নিবেদন করিয়া থাকে যে উহাকে ঐ স্থান হইতে দূর করিয়া দাও। যে শক্তি সাহায্যে ঐরুপ ঘটনা ঘটিয়া থাকে তাহাই জীবনীশক্তি বা Vital force. প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঐ শক্তি যে ভাষায় আবেদন নিবেদন করে তাহাই লক্ষণ, এবং যাহার দেহে যে ভাবে ঐ আবেদন নিবেদন প্রকাশিত হইবে তাহাই সেই দেহ এবং ব্যাক্তির বিশিষ্টতা।
আর ও উল্লেখ্য, যে ব্যক্তির দেহাংশিক অথবা দেহের সর্বব্যাপি জীবনীশক্তির বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়াছে কিংবা হ্রাস পাইয়াছে, তিনি দেহের কোথায় কি, কখন কোথায় অবাঞ্চিত কিছু অবস্থান করিতেছে বুঝিতেই অক্ষম।আমরা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকগণ এই জীবনীশক্তিকে উজ্জিবিত করিয়া জীবনীশক্তিকে প্রবল এবং অক্ষূণ্ণ রাখিতে সাহায্য করি, এবং জীবনীশক্তির সাহায্যেই দেহস্থিত রোগদূরীকরনে সহায়তা প্রদান করি।আর ও বলা যায় যে, দেহাংশিক আক্রান্ত হওয়া সত্বে ও দেহমন পীড়িত হয় বলিয়া লক্ষণ সমষ্টির সাহায্যে হোমিওপ্যাথি ঔষধ নির্বাচন করিতে হয়।

রোগের নয় রোগীর চিকিতসাঃঃঃঃঃঃ

-অপরিণত বয়স হইতে অদ্যাবধি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকগণের মুখে মুখে বারংবার উচ্চারিত ও ধ্বনিত কথাটি "রোগের নয় রোগীর চিকিৎসা" আমাদিগের শ্রুতিগোচর হইয়া আসিতেছে।এই মর্মে পাড়াগাঁয়ের কোয়াক হইতে আরম্ভ করিয়া শহুরে হোমিওপ্যাথিকলেজ উত্তীর্ণ ডিগ্রিপ্রাপ্ত ডক্তারবাবুরাও ব্যতিক্রম নহেন।অতিতে বিষয়টি হৃদয়ংগম করিতে সক্ষম ছিলাম না। অধুনা হোমিওপ্যাথির সান্নিধ্যে সরাসরি যুক্ত হইবার কা
রণে হউক অথবা স্বীয় তৎপরতার কারণে হউক যৎকিঞ্চিত সন্নিকটে ঘেঁসিয়া বিস্ময়ে হতবাক হইয়া গিয়াছি। উদাহরণতঃ, রোগী কিংবা রোগীর অভিভাবক
হিসাবে হোমিওপ্যাথি ডাক্তারবাবুগণের দ্বারস্থ হইয়াছি প্রতিক্ষেত্রেই, অধিকাংশ নয় বরং কহিতে লজ্জা নেই শতকরা শতজন এবং প্রতিহাজারে নয়শত নিরানব্বই জন ডাক্তারবাবুই সর্দি,সর্দিকাশি কিংবা জ্বর তৎসহ সর্দিকাশি বা অনুরুপ কিছু মাত্র শ্রবণ করতঃ অন্য কোন রোগীতে কিংবা আমাকে ঔষধ দিতে দর্শন করিয়াছি। ঐরুপে অদ্যাবধি ডাক্তারবাবুরা নিজ চিকিৎসাকর্ম বজায় রাখিয়াছেন লোকমুখে এখন ও শুনিতে পাই। অতীতে একসময় আমার একমাত্র পুত্র সন্তানের চিকিৎসাহেতু স্বীয় রাজ্য অধিনস্থ হুগলি জেলায় খ্যাতিপ্রাপ্ত এক হোমিওপ্যাথি ডাক্তারবাবুর সমীপে উপস্থিত হইয়াছিলাম। তাঁহার খ্যাতির উল্লেখযোগ্য একমাত্র কারণ হইল তিনি কোন রোগীর নিকট কোন রোগবৃত্তান্ত না শুনিয়া শুধুমাত্র পদযুগলের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দর্শন পূর্বক ব্যবস্থাদি দিতেন। কার্যতঃ তাহাই দর্শন করিলাম এবং আমার সন্তানের জন্য দেওয়া ঔষধ মাসাধিক কালযাবৎ সেবন করাইয়া বিফল মনোরথে অতিতের ন্যায় স্বস্থানে পুনরায় অবস্থান গ্রহন করিলাম।
এক্ষনে,যাঁহারা হোমিওপ্যাথিশাস্ত্র অধ্যয়ণ করিতেছেন কিংবা করিয়াছেন,তাঁহারা করুণাবশতঃ একটিবার অন্ততঃ অবসর সময়ে ভাবিয়া দেখিবেন,যাহা হোমিওপ্যাথির জনক স্বয়ং হ্যানিমান কিংবা তাঁহার সহযোগী ও শুভানুধ্যায়ীগণের দ্বারা সম্ভব হয় নাই। ইহা ব্যতিরেকে হোমিওপ্যাথির চিকিৎসা জগতের আলোকবর্তিকা, খ্যাতিমান চিকিৎসকগণের মাঝে কোন একজনকে ও আপনি প্রাপ্ত হইবেন না যিনি এতদসমস্ত পদ্ধতি অবলম্বন করিয়াছিলেন। সংগত কারণে সিদ্ধান্তে বলা যায়, ইহারাই হোমিওপ্যাথির চরম সর্বনাশের আহবায়ক কিংবা বিনাশক অথবা ঠক।
হোমিওপ্যাথির প্রতি জনগণের এত ঔদাসিন্য ও অবহেলা ইহাদিগেরই অবদান।

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
মহর্ষি হ্যানিম্যানের দ্বারা আবিস্কৃত হোমীওপ্যাথি মানবকল্যানে অগ্রগামী ও যথার্থ বৈজ্ঞানিক।মানব পরিবারে জন্মগ্রহনকারি ধিশক্তিসম্পন্ন ও সত্যান্বেষী ব্যাক্তি এই কল্যানময় হোমিওপ্যাথি তত্বের অভ্যন্তরে প্রবেশলাভ করিয়াছেন এবং এখনো করিতেছেন, তাঁহারা সকলেই ইহার গুনে ও ক্রিয়ায় মুগ্ধ।
সহজবোধ্যভাবে আমরা সকলেই অবগত আছি যে, এই জগতের প্রত্যেকটি উৎকৃষ্ট জিনিষের জন্য একটি আবরন থাকেই থাকে। সেই আবরন কোন কোন ক্ষেত্র
ে কঠিন এবং কিছু ক্ষেত্রে নমণীয় ও হইয়া থাকে। যাহারা ইহার স্বাদ ভক্ষণ করিতে ইচ্ছুক,তাহাকে বিশেষ পরিশ্রমের দ্বারা এই আবরন ভেদ করিতে হইবে, অন্যথায় ইহার মধুর স্বাদ হইতে যাবজ্জীবন বঞ্চিত থাকিতে হইবে।তবে,জানিলাম যে জগতের নিয়ম, মূল্যবান বস্তুসকল আবরনে আবদ্ধ রাখা এবং আকাঙ্খিগণের নিয়ম তাহা পরিশ্রম করিয়া ভেদ করতঃ স্বাদভক্ষণ কিংবা লাভবান হওয়া। এই প্রসঙ্গে আমার পিতৃব্য মহামহিম মহাশয়ের নিকট শ্রুত একটি কাহিনী মনে পড়িল।
কোন এক সময়ে আফগানিস্তানের লোকেরা আমাদের অবিভক্ত বংগদেশ পর্যন্ত ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসিত ও রকমারি জিনিষপত্র গ্রামে গঞ্জে এবং শহরের অলিতে গলিতে ফেরি করিয়া বেড়াইত। যাক সে সকল ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। ঐ সকল আফগানিস্তানের লোকদিগকে আমাদের দেশের লোকেরা কাবুলিওয়ালা বলিয়াই সম্বোধন করিত ও জানিত। কোন একদিন জনৈক কাবুলিওয়ালার নারিকেল ভক্ষনের ইচ্ছা হইল। বাংগালীদিগের নিকট তিনি শুনিয়াছেন নারিকেল খুব উত্তম ও মিষ্ট ফল । একদা একসময়ে স্থানীয় বাজার হইতে তিনি একখানা পছন্দমত নারিকেল সংগ্রহ করিয়া আপন ডেরায় আসিলেন।নারিকেলের প্রতি আগ্রহ ও মানসিক চাহিদা তাহাকে ত্বর সহিবার অবকাশ দিলনা। মস্তকোপরি মোটখানা নামাইয়া নারিকেল লইয়া ইতস্ততঃ নাড়াচাড়া তৎপরে সুতীক্ষ্ণ দন্ত সহযোগে নারিকেলের উপরিভাগস্থিত ছোবড়া উন্মোচনের আপ্রান প্রচেষ্টা। প্রায় ঘন্টা কাল ধরিয়া আপ্রাণ চেষ্টা করিয়া ও খাদ্যবস্তুটুকু সংগ্রহ করিতে না পারিয়া রাগে,ক্ষোভে,দূঃখে ও অপমানের একশেষ হইয়া দূরে নিক্ষেপ করিয়া স্বগতোক্তি করিতে থাকিলেন "জেয়সা বাঙ্গালী অয়সা উসকা ফল"।
ইহা তাহার স্বগতোক্তি কিংবা খেদোক্তি অদ্যাবধি আমার হৃদয়ঙ্গম হয় নাই তবে, হোমিওপ্যাথির তত্ব সংগ্রহে কতিপয় সত্যসন্ধানি ব্যক্তিত্য ব্যতিরেকে
আমি স্বয়ং এবং আমারমত স্বল্পচেষ্টায় অধিক সুনাম,যশঃ ও অর্থ অভিলাশিরা প্রায় একরুপ।

No comments:

Post a Comment