Thursday, 8 November 2012

প্রকৃত আলিম নবী (দঃ) গণের উত্তরাধিকারী।


১. একজন আ’লিম নাবী-রসুল আলাইহি আসসালামদের উত্তরাধিকারী।
রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :

إن العلماء ورثة الانبياء

‘আ’লিমগণ নাবীদের উত্তরাধিকারী।’ (মুসনাদে আহমাদ- ২১৭৬৩, সুনান আবু দাউদ – ৩৬৪১, সুনান তিরমিযী – ২৬৮২, সুনান ইবনে মাজাহ – ২২৩, সহীহ ইবনে হিব্বান- ৮৮, শুয়াবুল ঈমান – ১৬৯৬, আলবানীর মতে সহীহ, দেখুনঃ সহীহ ও জয়ীফ সুনান ইবনে মাজাহ – ২২৩)

ইবনে হিববান (র.) বলেন : ‘এই হাদিস
ে পরিস্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, পূর্বে উল্লেখিত গুণাবলী সম্পন্ন আলিম হচ্ছেন তাঁরা, যারা অন্যান্য সকল ইলম ছাড়াও মানুষকে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জ্ঞান শিক্ষা দেন। তুমি কি দেখোনা, তিনি বলেছেন : ‘আলিমরা নাবীদের উত্তরাধিকারী।’ নাবীরা ইলম ব্যতীত অন্য কোন উত্তরাধিকার রেখে যান না। আর আমাদের নাবীর জ্ঞান হচ্ছে তাঁর ‘সুন্নাহ’। তাই থেকেই সুন্নাহ শিক্ষা হতে বঞ্চিত, সে তাঁর উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভূক্ত নয়।’ (আল ইহসান ফি তাক্বরীব সহীহ ইবনে হিববান, ১/২৯৫, ৮৮নং পয়েন্ট)

সুতরাং, তাঁদের কথা, কাজ, ইবাদাত, বিশ্বাস, আল্লাহর দিকে দাওয়াত ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে নাবী-রসুল আলাইহি আস্ সালামদেরকে যে যত বেশি অনুসরণ, অনুকরণ করবেন, তিনি তাঁদের উত্তরাধিকারী হিসেবে ততটুকু অগ্রগামী হবেন ।

উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত মুহাদ্দিস বদরউদ্দিন আইনী (র.) বলেছেন : ‘এই অধ্যায়ের এই নামকরণের মাধ্যমে তিনি (ইমাম বুখারী (রহ.)) এই ব্যাপারে ইঙ্গিত করেছেন যে, আল-কুরআনে এই কথার পক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে।’ (দেখুন ‘উমদাতুল ক্বারী’ শার্হ সহীহ বুখারী, ২/৪৯৭)

রুদ্দুল মুহতারে এই হাদিসের আলোকে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আলিমরা ও নাবীদের মতো রাস্ট্র পরিচালনা (সিয়াসাহ্) করবেন।’ (১৫ খন্ড, ৩২ পৃ.)

ইমাম ছারকাসী (র.) উক্ত হাদিসের আলোকে নাবীদের প্রধান দুই কাজ : মানুষকে দাওয়াত দেয়া এবং জাহান্নাম হতে সতর্কীকরণের ক্ষেত্রে আলিমরা নাবীদের উত্তরাধিকারী বলে বর্ণনা করেছেন। (দেখুন : আল মাবসুত, ১/১৫৮৮)

যে আলিম ছয়টি ক্ষেত্রে নাবীদের অনুসরণ করেন, তিনি মাত্র পাঁচটি ক্ষেত্রে অনুসরণবাহী আলিম হতে নাবী-রসুলদের উত্তরাধিকারী হিসেবে অধিক স্বার্থক। যিনি সকল নাবী-রসুলদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণর্ কাজসমূহ হতেও পিছিয়ে আছেন, দূরে থাকেন, কিংবা ভয়ের কারণে অনুসরণ করতে পারেন না, তিনি আদৌ নিজেকে তাঁদের উত্তরাধিকারী দাবী করতে পারবেন কিনা, ভেবে দেখা উচিৎ।

রসুলূল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
عن النبي صلى الله عليه و سلم قال لا تزول قدم ابن آدم يوم القيامة من عند ربه حتى يسئل عن خمس عن عمره فيم أفناه وعن شبابه فيم أبلاه وماله من أين اكتسبه وفيم أنفقه وماذا عمل فيما علم. سنن الترمذي - قال الشيخ الألباني : حسن

পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগ পর্যন্ত কোন আদম সন্তান কিয়ামতের দিন নিজ স্থান থেকে এক পা নড়তে পারবে না। তোমার জীবন কিভাবে ব্যয় করেছো? তোমার যৌবনকাল কিভাবে ব্যয় করেছো? ধন-সম্পদ কোন পথে আয় করেছো? আর কিভাবে তা ব্যয় করেছো? যে পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করেছিলে, তা কতটুকু বাস্তবায়ন করেছিলে?’ (সুনান তিরমিজী- ২৪২২)

যদি কেউ নবীদের জ্ঞানের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকেন, আর সে জ্ঞান অনুযায়ী কাজ না করেন, তাহলে ঐ জ্ঞানই আখিরাতে তার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ সেখানে সবাইকে প্রশ্ন করা হবে। সুতরাং ইলমের বাস্তবায়নে যে যত অগ্রসর, নাবীদের উত্তরাধিকারী হিসেবে তিনি তত স্বার্থক।

No comments:

Post a Comment