Saturday, 8 December 2012

আমি নিজে কি করি।


''যুগ বড় খারাপ''।''সবাই আছে নিজের চিন্তায়''।''নীতি নৈ্তিকতা ও ভদ্রতার মৃত্যু ঘটেছে''।''মানুষ আল্লাহ ও আখেরাতকে ভুলে গেছে''।
এ জাতীয় কথা আমরা প্রত্যেকদিনই শুনে থাকি বলে থাকি।যে কোন আড্ডায় যাবো,সেমিনার,আলোচনায় যাই না কেন ঘুরে ফিরে এসব কথা থাকবেই।এই অভিযোগ গুলোও খুব অবান্তর নয়,এই কথা গুলোও খুব অযৌক্তিক নয়।যতই দিন যাচ্ছে অন্যায় আর দুর্নীতি আমাদের কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে।আবার যদি অন্যদিকে তাকাই তাহলে দেখব,সমাজ সংস্কারের জন্য আমাদের চারপাশে চেষ্টারও কমতি নেই!হাজার হাজার সংস্থা,সংগঠন,কত শত দল সবার উদ্দেশ্যও প্রায় একই..দেশের সেবা করা,দেশের উন্নতি করা,মানুষের মতো মানুষ হওয়া।
কিন্তু তারপরেও আমরা আশার তেমন কোন আলো দেখতে পাই না।তেমন কোন উন্নতিও দেখতে পাই না।দিন যাচ্ছে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে,অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছি আমরা,আরো হিংস্র হয়ে যাচ্ছি,আরো স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছি..কেন?!!
হয়তো এর পেছনে অনেক কারণ ই আছে,তবে আজকে আমি একটা কারণ কে ফোকাস করব।
দিন দিন আমাদের সমাজের প্রকৃ্তি এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে,আমরা অন্যের সমালোচনা করতে,অন্যের দোষ ধরতে খুব বেশি পছন্দ করি,অন্যের দোষ ঘাটাঘাটি করতে করতে মুখে ফেণা তুলে ফেলি,অথচ খুব ভালো করেই জানি এটা সংশোধনের কোন বাস্তব সম্মত পন্থা নয়।আমরা অবক্ষয় আর অধঃপতন নিয়ে সমালোচনা করার জন্য নিত্য নতুন পন্থা আবিস্কার করে চলেছি অথচ এ সমস্ত অবক্ষয়কে রোধ করার জন্য কোন পদ্ধতি ঠিক ভাবে মানতে আমরা রাজী নই!মনে হয় আমাদের মাথায় একটা কথা খুব ভালো ভাবে গেঁথে গেছে আর তা হল,আমি ছাড়া আর দুনিয়ার সবাই খারাপ।খুব কম মানুষই আমরা চিন্তা করে থাকি যে আমাদের নিজেদের ও অনেক দোষ আছে,সে গুলো সংশোধন করা খুব জরুরী,কারন,আল্লাহ আমাকে বিবেক বুদ্ধি দিয়ে নিজেকে সংশোধন করার যোগ্যতা দিয়েই পাঠিয়েছেন।
আমি সংস্কার আন্দোলন করে যাচ্ছি দিনের পর দিন,অথচ আমার নিজের ভেতরই হাজারো কুসংস্কারে ভরপুর,তাহলে আমার পরিশ্রম আমাকেই কি দেবে আর সমাজকে কি দেবে?!
আমি রাষ্ট্রের সমস্যা নিয়ে রাত দিন চিন্তা করে যাচ্ছি,রাস্তায় বের হলেই হাজারো দোষ আমার চোখে পড়ছে,কিন্তু আমি নিজেই জানিনা আমার চিন্তা গুলো কতটা সঠিক,আমি যে ভুল গুলো ধরছি তা আসলে কতটা যৌক্তিক,তাহলে কি পরিচয় দাড়াচ্ছে আমার চিন্তার?!
অনেক ভাইদের কে দেখি আজকাল কার মেয়েরা কিভাবে চলাফেরা করে এই টপিকসে কথা বলতে বললে এমন সব ভুল ধরে যে নিজের অজান্তেই বলতে হয়,ভাই আপনি এত কিছু খেয়াল করেছেন মেয়েদের?!!
অনেককে যদি প্রশ্ন করি আমাদের ভবিষৎ জেনারেশন সম্পর্কে আপনার ধারনা কি?উত্তরে এমন লেকচার শুনান যেন দুনিয়ার সব থেকে খারাপ বৈশিস্ট্য আমাদের এই জেনারেশনের আর ভবিষৎ জেনারেশনের আছে,এরা সীসা খায়,ড্রিংকস করে..ইত্যাদি অথচ সে নিজেই একজন চেইন স্মোকার।কথায় কথায় গালাগালি করেন..তাহলে উনারা কি শিখাচ্ছেন বর্তমান আর ভবিষৎ কে..?!
দুর্নীতি আমাদের সমাজকে শেষ করে দিচ্ছে,এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চায়ের আড্ডায় দেয়া হচ্ছে হাজারো লেকচার,কিন্তু যদি ঐ ছাত্রকে প্রশ্ন করা হয় মাস্টার্স শেষ করে কি করবেন?উত্তরে বলবে,বিসিএস দিব,কারণ যেভাবে খুশী ভালো ইনকাম করা যায় আবার সম্মানো আছে..!
আবার অনেকে এভাবেও বলেন,সবাই খারাপ হচ্ছে আমি আর কত ভালো থাকবো..''এগুলা হচ্ছে খারাপ সময়ের ফল..''ইত্যাদি
অথচ আল্লাহ কোরআনে বলেছেন,
''হে মুমিনগণ,তোমরা নিজেদের চিন্তা কর।তোমরা যখন সৎপথে রয়েছ,তখন কেউ পথভ্রান্ত হলে তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। (সূরা-মায়েদাহ,১০৫)
অন্যের সমালোচনা করা,বা দোষ ধরে তাকে হেয় করা বা খারাপ ভাবা সমস্যা সমাধানের কোন পথ না।বরং এটা সমস্যা আরো বৃ্দ্ধি করে,অশান্তি সৃষ্টি করে।
আমি আজ অন্যকেউ ঘুষ খায় বলে তার সমালোচনা করছি অথচ নিজের কোন দোষের কথা যদি বলা হয় সাথে সাথে অজুহাত দাড় করিয়ে ফেলছি।
আমি সমাজের দুর্নীতির কথা বলছি কখনো কি ভেবে দেখেছি আমি নিজে কোন ভাবে এর সাথে জড়িত আছি কি না?!
আমি সমাজে ইসলামী অনুশাসন নেই বলে ক্ষোভ দেখাচ্ছি অথচ আমি নিজে কতটা ভালোবেসে ইসলামকে মেনে চলছি বা অন্যকে মানতে বলছি সেটাকি ভেবে দেখেছি?
আজকাল ব্লগে যেকোন ইস্যু নিয়ে বিশাল সমালোচনার ঝড় উঠিয়ে ফেলি,অথচ আমি নিজে কয়বার নিজেকে বিবেকের আয়নায় দাড় করিয়ে নিজের দোষ গুলো ধরে থাকি?ভেবেছি কি?
হুমায়ন আহমেদ কেন দুই বিয়ে করলেন সেই ইস্যুতে গলা ফাটিয়ে ফেলছি,অথচ ব্যক্তি জীবনে কিংবা আমার কাছেরই কেই হাজারো অবৈ্ধ প্রেম করে বেড়াচ্ছে,বিয়ের পরে আরেকজনের সাথে সময় কাটাচ্ছে,আমি কি কখনো তাকে না করেছি?চেষ্টা করেছি মন থেকে?
যাইহোক,এভাবে প্রশ্ন করতে থাকলে হাজার প্রশ্ন হতে থাকবে তাই আর না ই বলি,কারন বুদ্ধিমানের জন্য একটু ইশারাই যথেষ্ট।
আমরা জানি,একটি প্রদীপ থেকে জ্বলতে পারে হাজারো প্রদীপ। আমাদের চেষ্টা করা উচিত নিজেকে সেরকম একটি প্রদীপ হিসেবে তৈ্রী করা।পৃথিবীতে এমন উদাহরন অনেক আছে যারা জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে অবস্থান করেও নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
এরা সৎ এবং পবিত্র ভাবে জীবন যাপন করে মরে যাননি।
রাসূল (স) হাদীসে বলেছেন,
''যে ব্যাক্তি বলে বেড়ায় যে,মানুষ ধংস হয়ে গিয়েছে,তাহলে প্রকৃ্তপক্ষে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক ধংসগ্রস্থ লোক সে নিজেই।(মুসলিম)
আল্লাহ আমাদের সেই মানুষ এর দলে না ফেলুক এই দোয়াই করি।আমীন। 

No comments:

Post a Comment